নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি বহু পাসপোর্ট গিয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতাসহ আট জায়গায় অভিযানে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির তল্লাশি অভিযান চলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই। ওই সূত্রে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর জাল নথি এবং বিভিন্ন সামগ্রী।
কিছু বাংলাদেশি নাগরিক জাল নথি জমা করেও পাসপোর্ট পেয়েছে। এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছিল আরপিও। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিকিওরিটি কন্ট্রোল। আরপিও’র অভিযোগে বলা হয়, এরাজ্যের বিভিন্ন ঠিকানায় ইতিমধ্যেই ওইরকম ১৩০টির বেশি পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা পাসপোর্টগুলি পেয়েছে। জাল নথি তৈরির কারখানা খোলা হয় হরিদেবপুর এলাকায়। ভুয়ো ঠিকানায় ইস্যু করা পাসপোর্টগুলির এনওসি’তে সই রয়েছে কলকাতা পুলিসের এক সাব-ইনসপেক্টরের। ওই অফিসারসহ একাধিক এজেন্ট এবং জাল নথি তৈরির মূল পান্ডাসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজার। চার্জশিটে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে পলাতক দেখানো হয়। আন্তর্জাতিক বিষয় জড়িয়ে যাওয়ায় আদালতের নির্দেশমতো ইডি ইসিআইআর রুজু করে তদন্তভার নেয়। তারা জানতে পারে, যে-সমস্ত অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশির নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ায় এদেশের দালালদের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশেরও কিছু এজেন্ট। এরাজ্য থেকে নগদ পৌঁছেছে তাদের কাছেও। বাংলাদেশিদের জাল নথির বিনিময়ে পাসপোর্ট করিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করেছে ওই এজেন্টরা।
তারা এই টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। কিনেছে কিছু সম্পত্তিও। পাশাপাশি যে-সমস্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছে তারা আবার হাওলা কারবারে যুক্ত। তার ভিত্তিতে এদিন কলকাতার পাশাপাশি বিরাটি, মধ্যমগ্রাম, নদীয়াসহ অনেকগুলি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। যাদের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে তারা সকলেই এই জালিয়াত চক্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ও সম্পত্তির মালিক। মানি ট্রেলের সন্ধান পেতে, বাজেয়াপ্ত নথির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। জেলবন্দি অভিযুক্তদের জেরা করতে চায় ইডি। তাই ইতিমধ্যেই তাদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।