সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: মাথার উপর চড়া রোদ। তারইমধ্যে উৎসবের আবহ ইস্ট বেঙ্গলে। লাল এবং হলুদ পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি পরে প্রিয় ক্লাবে হাজির অনুরাগীরা। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে প্রথা মেনেই বারপুজো হল। ফুল, মালা, মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিলেন প্রত্যেকে। চলতি মরশুমে পুরুষ ফুটবল দল ব্যর্থ হলেও মহিলারা তা ঢেকে দিয়েছেন আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। এদিন সকালে এক ইস্ট বেঙ্গল সমর্থককে বলতে শোনা গেল, ‘এমন রোদের তেজ যেন দিয়ামানতাকোসদের মধ্যে থাকে। পুজো ভালো হয়েছে। কোচও ভালো। সুদিন ফেরার আশায় দিন গুনছি।’
সত্যিই দিন গুনছেন লাল-হলুদ অনুরাগীরা। পড়শি ক্লাবে দু’টি ট্রফি যখন ঝলমল করছে ঠিক তখনই কোচের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন ফ্লপমাস্টার ক্লেটন সিলভা। চলতি মরশুমে আইএসএলে একটিও গোল করতে পারেননি তিনি। পারফরম্যান্সে বয়সের ছাপ সুস্পষ্ট। কিন্তু অনুশীলন ম্যাচে পছন্দের পজিশন না পেয়ে কোচের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান তিনি। শুধু তাই নয়, বৈশাখের প্রথম দিনেও তা বয়ে বেড়ালেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। অনুশীলন শেষে অস্কার ব্রুজোঁ কিছু বলতে গেলেই তাঁর দিকে তেড়ে যান ক্লেটন। অভিজ্ঞ শৌভিক চক্রবর্তী গোটা পরিস্থিতি সামাল দেন। গোটা বিষয়টা ক্রমশ অস্বস্তি বাড়াচ্ছে লাল-হলুদ শিবিরে। মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে দু’জনেই মুখ খুলতে চাননি।
ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার অবশ্য এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বললেন, ‘যে কোনও দলের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকা দরকার। কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। তবে অতীতে ইস্ট বেঙ্গলে সুভাষ ভৌমিক কোচ থাকাকালীন এমন বিতর্ক রোজ হতো। কিন্তু দল সাফল্য পাওয়ায় তা মাথাচাড়া দিতে পারেনি। কোচের সঙ্গে ফুটবলারদের মতানৈক্য নতুন কিছু নয়। তবে তার মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলতে হবে।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘কয়েকদিন আগেই ইনভেস্টর কর্তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ঝাঁপানোর কথা বলেছেন। সেই মতোই এবার দল গঠন করা হবে।’
এদিন সকালে আগামী মরশুমের অধিনায়ক মহেশ সিংয়ের হাত দিয়েই সম্পন্ন হয় বারপুজো। সঙ্গে ছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ, ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় ও শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। এছাড়া এদিন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে হাজির ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দেখা গিয়েছে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, অলোক মুখার্জি, সুলে মুসা, মেহতাব হোসেন, আলভিটো ডি কুনহা, সম্বরণ ব্যানার্জি, ক্রিকেট কোচ আব্দুল মুনায়েম সহ একঝাঁক অতীতের তারকাকে। এছাড়া হাজির ছিলেন সদ্য চ্যাম্পিয়ন মহিলা দলের ফুটবলাররা। ফুটবল স্কুলের বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড় সহ তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন মাঠে।