


মেক্সিকো সিটি: মাদক পাচারের অভিযোগে তিন বছর ঠিকানা ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার জেল। সেখান থেকে মেক্সিকোয় ফিরে পুলিশ অফিসারের চাকরি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপরাধ দুনিয়ার বেতাজ বাদশা হয়ে বসা। হলিউড সিনেমাকেও হার মানাবে সেই কাহিনি। চার বছর আগেও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করায় মেক্সিকোর নৌসেনা অফিসারদের কিডন্যাপ করতে দু’বার ভাবেনি তার গ্যাং, হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল। সেই কুখ্যাত ড্রাগ-লর্ড নেমেসিয়ো রুবেন ওসেগুয়েরা সের্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেঞ্চো’ অবশেষে খতম! মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার মেক্সিকোর হালিস্কো প্রদেশের তাপালপায় গোপন অভিযান চালিয়েছিল সেদেশের সেনাবাহিনী। অভিযান চলাকালীন দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয় ‘এল মেঞ্চো’। পরে হেপাজতে থাকাকালীন মৃত্যু। দুপুরে (স্থানীয় সময়) ন্যাশনাল গার্ডের কড়া প্রহরায় ড্রাগ-লর্ডের দেহ নিয়ে আসা হয় মেক্সিকো সিটিতে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে আগুন জ্বলেছে। তাপালপা, গুয়ানাজুয়াতো, পুয়ের্তো ভালার্তা সহ একাধিক প্রদেশে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ‘এল মেঞ্চো’ অনুগামীরা। পুড়েছে দোকান-গাড়ি। বিভিন্ন প্রদেশে দিনরাত টহল দিচ্ছে মেক্সিকান ন্যাশনাল গার্ড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণ গিয়েছে ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ডের।
গত দশকে মেক্সিকোর ত্রাস সিনালোয়া কার্টেলের কিংপিন হোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজম্যানের গ্রেপ্তারির পর উত্থান ‘এল মেঞ্চো’র। বর্তমানে সে বিশ্বের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ফেরার অপরাধী। ৬০ বছর বয়সি এই ড্রাগ-লর্ডের মাথার দাম মার্কিন সরকার রেখেছে দেড় কোটি ডলার। ছোটোবেলাতেই আমেরিকায় চলে গিয়েছিল সে। সেখানেই মাদক পাচারে হাতেখড়ি। তারপর মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, ১৯৯৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেরোইন পাচার ষড়যন্ত্র মামলায় তিন বছর কারাবাসের সাজা হয়। জেল থেকে বেরিয়ে সে ফিরে যায় মেক্সিকোয়। হালিস্কোর পশ্চিম প্রদেশে পুলিশ অফিসার পদে যোগ দিলেও বেশিদিন সেকাজে মন বসেনি ‘এল মেঞ্চো’র। আবার নিজের অপরাধমূলক কাজকর্ম শুরু করে। ২০০৯ সালে তৈরি হয় হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকায় কোকেন, ফেন্টানিল, হেরোইন সহ বিভিন্ন ধরণের মাদক পাচার করত এই কার্টেলই। চলতি মাসে এই কার্টেলকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মেক্সিকোর রাজনীতিতেও যথেষ্ট প্রভাব ছিল কুখ্যাত এই ড্রাগ-লর্ডের। সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এদিন পশ্চিম হালিস্কোয় সামরিক অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক শাখা। বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মেঞ্চোর দলের ছ’জন সদস্যের মৃত্যু হয়। এরইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় দুই সন্দেহভাজনকে। ধৃতদের থেকে অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চার সহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মেক্সিকোর নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া গোটা অপারেশনের নেপথ্যে ছিলেন। ছ’বছর আগে তাঁকে খুন করার চেষ্টা চালিয়েছিল ‘এল মেঞ্চো’র কার্টেল। বর্তমানে ওমরকে ‘মেক্সিকো ব্যাটম্যান’ বলে ডাকা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই মাদকবিরোধী অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন তিনি মজার ছলে ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ‘আমরা বড্ড বেশি জিতে যাচ্ছি। এটা মোটেই ভালো হচ্ছে না!’
সতর্কবার্তা জারি করেছে মেক্সিকোর ভারতীয় দূতাবাস। এক্স হ্যান্ডলে তারা জানিয়েছে, ‘জালিস্কো, তামাউলিপাস, মিচোয়াচান, গুয়েরেরো, নুয়েভো লিয়োঁর ভারতীয়দের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজন না থাকলে বাইরে যাবেন না।’ এল মেঞ্চো। ফাইল চিত্র।