সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রাম থেকে দু’কিমি হেঁটে নদীর ধারের সাবমার্সিবল পাম্প থেকে পানীয় জল আনতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। কারণ, এলাকায় পানীয় জল প্রকল্প তিনবছর ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। বারবার পঞ্চায়েত বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করেও সুরাহা মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। অবশেষে, বিশুদ্ধ পানীয় জল চেয়ে বিডিওর কাছে গণস্বাক্ষরিত আবেদন জানালেন গ্রামবাসীরা।
গরমের তীব্রতা যে কতখানি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গরমে শরীর সুস্থ রাখার উপায় হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন বারবার জল খাওয়ার কথা। কিন্তু, নতুন আবদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দারা পর্যাপ্ত পানীয় জল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ২০২০-’২১ সালে এই গ্রামের পূর্বপাড়ায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচে পানীয় জল প্রকল্প গড়ে ওঠে। পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল তুলে রিজার্ভারে মজুত করে, পরে সেখান থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতেন বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তিনবছর ধরে সেই প্রকল্প অচল হয়ে রয়েছে। তীব্র রোদে কলসি কাঁখে বাঁশলৈ নদীর ধার পর্যন্ত হেঁটে যান গ্রামের মহিলারা। নদীর ধারে সেচের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প চলছে। সেখান থেকে জল সংগ্রহ করে তাঁদের আনতে হয়।
গ্রামবাসী গোলেনুর বিবি, কলি বিবি, পারভিন সুলতানা বলেন, এলাকায় কোনও টিউবওয়েল নেই। পানীয় জল নিয়ে আমরা চরম সমস্যায় পড়ছি। প্রায় দু’কিমি দূরের নদীর ধারে চাষের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প চলে। নারী, পুরুষ, গর্ভবতী মহিলাদের সেখান থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতে হয়। এই প্রকল্প মেরামত করার জন্য বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু, তা করা হচ্ছে না।
গ্রামের বাসিন্দা সারজিনা খাতুন বলেন, বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে খাবার দেওয়ার চেয়েও বেশি ভাবনা হয়, দু’গ্লাস জল চাইলে কীভাবে দেব। তীব্র গরমে তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন গোটা গ্রাম। পঞ্চায়েত কিংবা জনপ্রতিনিধিদের বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। গ্রামে জলের অভাবে গবাদি পশুরাও কষ্ট পাচ্ছে।
গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য হীরা বিবি বলেন, অনেকদিন থেকে এই গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। বারবার প্রধান, উপপ্রধানকে বলেও সমাধান হচ্ছে না। তাই বাসিন্দারা বিডিওকে অভিযোগ করেছেন।
পঞ্চায়েত প্রধান সীমা রাজবংশী বলেন, ওই গ্রামে মাটির নীচের জলস্তর নেমে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। একাধিক জায়গায় বোরিং করেও জল পাওয়া যাচ্ছে না। বিডিও সাহেবকে দরখাস্ত করেছি। এখন তাঁর ভরসায় রয়েছি। পাশাপাশি, অন্য কোনও ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।