


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বেশি পাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই। কিন্তু আদৌ কি তা কোনও কাজে আসছে? কারণ কোটি কোটি টাকা কেন্দ্রীয় আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া সত্ত্বেও তপশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্ত মানুষের উপর হামলা, নিগ্রহের ঘটনা কমছে না ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে। বরং এক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য রাজ্যের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই। তালিকায় প্রথম সারিতে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো একাধিক গেরুয়া রাজ্য। সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের এসংক্রান্ত রিপোর্ট থেকেই তা স্পষ্ট। খোদ কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে মোদি সরকার।
তপশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্ত মানুষের উপর অত্যাচারের রাজ্যভিত্তিক ঘটনার এই সর্বশেষ রিপোর্ট সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রক প্রস্তুত করেছে ২০২২ সালের ভিত্তিতে। ১৯৮৯ সালের তপশিলি জাতি এবং উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের নিরিখে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসব প্রান্তিক মানুষের উপর হামলার খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে সারা দেশে তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষের উপর হামলা-নিগ্রহের মোট ৫২ হাজার ৮৬৬টি ঘটনা পুলিশে নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশেই এমন নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৭। এক্ষেত্রে সারা দেশে শীর্ষ স্থানে যোগী-রাজ্য। দ্বিতীয় স্থানে আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থান। এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে ২০২২ সালে মোট ৮ হাজার ৬৫১টি এহেন হামলা ও অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানেও আরও দু’টি গেরুয়া রাজ্য-মধ্যপ্রদেশ এবং বিহার। মধ্যপ্রদেশে ৭ হাজার ৭৩২টি এবং বিহারে ৬ হাজার ৫০৯টি অত্যাচারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
একইভাবে শুধুমাত্র তপশিলি উপজাতিদের উপর হামলা-অত্যাচারে পুলিশে নথিভুক্ত ঘটনাতেও দেশের মধ্যে এগিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে প্রথম তিনে থাকা প্রতিটি রাজ্যই ‘ডাবল ইঞ্জিন’। সেগুলি হল যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ (২ হাজার ৯৭৯টি), রাজস্থান (২ হাজার ৪৯৮টি) এবং ওড়িশা (৭৭৩টি)। বাংলায় এসংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কম। গেরুয়া শিবিরের আশঙ্কা, তপশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্তদের হামলার ঘটনার এহেন ছবি ভোটমুখী বিহারে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির হাতে সম্পূর্ণ নতুন অস্ত্র তুলে দিতে পারে।