Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিশ্চিন্ত থাকুন, ফিরছি আমরাই: মমতা, ‘মানুষকে ধন্যবাদ, রাষ্ট্রশক্তির অত্যাচার রুখেছে বাংলা’

রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে হাওয়াই চটির লড়াই! প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বুলডোজার রাজনীতির প্রবর্তক যোগী আদিত্যনাথ সহ দেড় ডজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আড়াই লক্ষ আধাসেনা, ঝাঁকে ঝাঁকে সাঁজোয়া গাড়ি—বাংলা দখলে এসেছিল ‘হাল্লা’।

নিশ্চিন্ত থাকুন, ফিরছি আমরাই: মমতা, ‘মানুষকে ধন্যবাদ, রাষ্ট্রশক্তির অত্যাচার রুখেছে বাংলা’
  • ১ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে হাওয়াই চটির লড়াই! প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বুলডোজার রাজনীতির প্রবর্তক যোগী আদিত্যনাথ সহ দেড় ডজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আড়াই লক্ষ আধাসেনা, ঝাঁকে ঝাঁকে সাঁজোয়া গাড়ি—বাংলা দখলে এসেছিল ‘হাল্লা’। প্রখর রোদের মধ্যে দু’দফার ভোটের ‘টার্নআউট’ পুরানো সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ায় বাংলায় ‘পরিবর্তন’ হচ্ছেই—পদ্মপার্টির তরফে স্বপ্ন ফেরি শুরু হয়ে যায়। শেষ দফার ভোট অন্তের ‘এক্সিট পোল’ লালায়িত সেই স্বপ্নকে ‘বাস্তবায়িত’ হওয়ার খোয়াব দেখাতেও শুরু করে। বীরবিক্রমে সমাজমাধ্যমে ঝাঁপিয়ে ‘ভক্তকুল’ ৪ তারিখ দেখে নেওয়ার শাসানি দিতে থাকে। বাংলা ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয় অনেককে। এই আবর্তেই বৃহস্পতিবার বাংলার মা-মাটি-মানুষকে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রত্যয়ী ভিডিও বার্তা—‘নিশ্চিন্ত থাকুন, ফিরছি আমরাই। সরকার গড়ব আমরাই।’ এই পর্বেই মমতা বলেছেন, ‘বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। এত চড়া রোদ্দুরে সব অত্যাচার সহ্য করেও যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আপনারা ভোট দিয়েছেন, তাতে নতমস্তকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি দলের সেই সমস্ত কর্মী-সমর্থককে, যাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের শত অত্যাচার সহ্য করেও জীবনপণ লড়াই করেছেন।’ এই পর্বেই স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্র পাহারা ও কড়া নজরদারির জন্য কর্মী-সমর্থকদের নিদান দিয়েছেন তিনি। 

Advertisement

গোটা কেন্দ্রীয় সরকার বনাম মমতা! লড়াইটাকে কীভাবে দেখলেন তিনি, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, ‘পিএম, হোম মিনিস্টার, ১৯টা রাজ্যের বিজেপি নেতা, লক্ষ লক্ষ আধাসেনা, অর্থ, শক্তি আর বন্দুকের প্রদর্শন। কী বাকি ছিল? এসব করে যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিল, জব্দ তারা নিজেরাই হয়েছে। রাষ্ট্রশক্তির অত্যাচার রুখেছে বাংলা।’ ভোট শেষের ‘এক্সিট পোল’ নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়েছে বিজেপি মহলে। ক্ষমতা দখল আর মাত্র ক’দিন দূরে, ভাবনা শুরু হয়েছে পদ্মপার্টির অন্দরে। ২০১৬, ২০২১ কিংবা ২০২৪’এর ভোট—বাংলার ‘এক্সিট পোল’ করতে এসে প্রতিবারই নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে ভোট বিশেষজ্ঞদের। এবারও এক্সিট পোল হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে তার প্রচার দেখে কিছুটা হতাশা নেমেছিল জোড়াফুল শিবিরে। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। টাকা দিয়ে করানো হয়েছে ওই এক্সিট পোল। আমার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে, সংবাদমাধ্যম সূত্রেই তা পেয়েছি। বুধবার দুপুর ১টা ৮ মিনিটে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জোর করে বলা হয়, এটা (এক্সিট পোল) করতেই হবে।’ মমতা বলেন, ‘কেন এটা করেছে, কারণটা জানেন? যাতে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। যাতে শেয়ার বাজার চাঙা করা যায়। আসলে আমরা ২০০ পার তো করছিই, ২৩০ আসনও পেরিয়ে যেতে পারি। ২০২৬’এ ২২৬ পার। মানুষের প্রতি সেই বিশ্বাস-ভরসা আছে। গোদি মিডিয়াকে দিয়ে এক্সিট পোল করানো হয়েছে। যেমনভাবে ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স আর সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ভয় দেখানো হয়, সেভাবেই হয়েছে এক্সিট পোল।’
শেষদফার ভোটে বিজেপির প্রাইভেট আর্মি হিসাবে কাজ করেছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। রাজ্যের যে সাতটি জেলায় ভোট হয়েছে, সেখানে বিনা প্ররোচনায় মানুষকে লাঠিপেটা করেছে সেন্ট্রাল ফোর্স। হৃদরোগ আক্রান্ত, সদ্য প্রসূতি, মহিলা, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুও বাদ পড়েনি আধাসেনার সেই ‘সন্ত্রাস’ থেকে। এদিন ভিডিও বার্তায় মমতার অভিযোগ, ‘অমিত শাহের ইন্ধনে আধাসেনারা বাচ্চাদের মেরেছে, মহিলাদের মেরেছে। আমার কেন্দ্রে সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। ভোটের আগেরদিন সারারাত সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দলের কর্মী-সমর্থকদের। ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে, যাতে কর্মীরা ভোটটা করতে না পারেন।’ কর্মী-সমর্থকদের প্রতি মমতার বার্তা—‘সংযত থাকবেন। শান্ত থাকবেন। আইন নিজের হাতে কেউ তুলে নেবন না। জানবেন, সব মনে থাকবে, সব মনে রাখলাম। ৪ তারিখ সন্ধ্যার পর জবাব দেব। ’    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ