জয়পুর, ১ জানুয়ারি: শেষরক্ষা হল না! ১০ দিন পর ৭০০ ফুট কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হল রাজস্থানের ৩ বছরের শিশুকে। কিন্তু উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মৃত্যুই হয়েছে একরত্তির, জানাল হাসপাতাল। আজ, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই তিন বছরের চেতনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, কুয়ো থেকে চেতনাকে উদ্ধার করার পরই অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় শিশুটি নড়াচড়া করছিল না, ছিল না জ্ঞানও। ফলে শিশুটি জীবিত না মৃত তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, শিশুটির জন্য আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা করা ছিল। কিন্তু তারপরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদিন রাতেই শিশুটির ময়নাতদন্ত হবে। সেই রিপোর্ট দেখেই বোঝা যাবে যে কবে, কখন ওই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাজস্থানের কোটওয়ালেতে খেলতে খেলতে প্রায় ৭০০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যায় বছর তিনেকের ছোট্ট চেতনা। প্রথমে সে কুয়োর ১৫ ফুট গভীরেই আটকে ছিল। এরপর তার পরিজনেরা তাকে বের করার চেষ্টা শুরু করলে ঘটে বিপত্তি। শিশুটি আরও ১৫০ ফুট গভীরে পড়ে যায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। অকুস্থলে আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। আসে খনি-শ্রমিকরাও। র্যাট-হোল মাইনিং পদ্ধতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টাও করা হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের অভাব যাতে না হয় তার জন্য কুয়োর মুখ দিয়ে একটি অক্সিজেন পাইপও প্রবেশ করানো হয়। এমনকী কুয়োর সমান্তরাল একটি সুড়ঙ্গও খোঁড়া হয়। শিশুটির উদ্ধারের আশায় কুয়োর পাশেই অপেক্ষা করছিলেন তার মা-বাবা, পরিজন এবং গ্রামবাসীদের একাংশ। সবাই ছিলেন আতঙ্কিত এবং উৎকণ্ঠিত। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন শিশুটি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হবে তো? এরপর আজ, বুধবার ওই শিশুটিকে কুয়োর বাইরে বার করে আনে উদ্ধারকারী দল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ছোট্ট চেতনার।



