


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: করিডরে লাল কার্পেটের উপর কমলা, হলুদ গাঁদা ফুলের অপূর্ব রঙ্গোলি। প্রদীপ আর মোমবাতির আলোয় চারিদিক উজ্জ্বল। ভিতরে প্রবেশ করতেই লস্যি, শরবত আর নিরামিষ মুখচোরক নিয়ে হাজির বেশ কয়েকজন। দীপাবলি উপলক্ষ্যে সোমবার এভাবেই সেজে উঠেছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। প্রতি বছরের মতো এবারও ধুমধাম করে আলোর উৎসব উদযাপন করল ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। তবে মিশর সফরে থাকার কারণে এবার সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিড। উপস্থিত ছিলেন উন্নয়নমন্ত্রী সীমা মালহোত্রা, এমপি ডগলাস আলেকজান্ডার সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
প্রথমে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান সীমা। তাঁর কথায়,‘১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দীপাবলি উদযাপন করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। এই উৎসব আমাদের প্রতি মুহূর্তে মনে করায়যে আলো অন্ধকার দূর করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন মূল্যবোধ আর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা বলে। সেটাই আমাদের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।’
স্বাগত ভাষণের পর মন্ত্রপাঠ করেন ভক্তিবেদান্ত ম্যানরের টেম্পল প্রেসিডেন্ট বিশাখা দেশাই। অতিথিদের শ্রী মহন্ত স্বামী মহারাজের দীপাবলির বার্তা পড়ে শোনান লন্ডনের শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরের সদস্য কিরিট ওয়দিয়া। এরপরেই প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী স্টিভ রিড। ফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় অবন্তী স্কুলের পড়ুয়ারা। একইসঙ্গে সংগীতের সাহায্যে হনুমান চালিসা পাঠ করে চিন্ময় স্বরাঞ্জলি। সব মিলিয়ে অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়।
সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। সঙ্গে ছিল ১২৭ জনের প্রতিনিধি দল। সংশ্লিষ্ট সফরে স্টারমারের সঙ্গে ছিলেন ডগলাস আলেকজান্ডার। ডাউনিং স্ট্রিটের অতিথিদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। ডগলাস বলেন, ‘জুলাই মাসে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরতি হয়। তাই অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা মুম্বই আর দিল্লি গিয়েছিলাম। দিল্লি ঐতিহাসিক শহর। তবে মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।’ স্টিভ রিডের কথায়,‘প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে গর্বিত বোধ করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীপাবলি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই উৎসব ঐক্যের কথা বলে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সকলকে দীপাবলি আর বান্দি ছোড় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।’