Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফর্ম ৬ জমার অভিযোগ নিয়ে ধুন্ধুমার সিইও’র দপ্তর চত্বরে, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনীও!

ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার স্ট্র্যান্ড রোডে সিইও দপ্তরের সামনে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ থামাতে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামানো হয়।

ফর্ম ৬ জমার অভিযোগ নিয়ে ধুন্ধুমার সিইও’র দপ্তর চত্বরে, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনীও!
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার স্ট্র্যান্ড রোডে সিইও দপ্তরের সামনে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ থামাতে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামানো হয়।

Advertisement

মঙ্গলবার বেলার দিকে আচমকাই সিইও দপ্তরের নতুন অফিসের সামনে হাজির হন তৃণমূলপন্থী বেশ কয়েকজন বিএলও। তাঁদের অভিযোগ, এক যুবক নাকি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফর্ম ৬ নিয়ে সিইও অফিসে জমা দিতে এসেছিলেন! তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তাঁকে ধরে তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা টানাটানি শুরু করেন। দেখা যায় এক যুবক একতাড়া কাগজ বগলদাবা করে সিইও অফিসে ঢুকছেন। 
সিইও অফিসে ফর্ম ৬ জমা করার অভিযোগকে ঘিরে যখন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা বিক্ষোভ শুরু করেন, তখন হঠাৎই চৌরঙ্গির বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। তবে কাকে মারধরের অভিযোগ করছে বিজেপি, তা স্পষ্ট নয়। তবে সিইও অফিসের সামনে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তার ঠিক কিছুটা দূরে অবস্থানে বসে পড়েন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা। দু-পক্ষের বিক্ষোভে সিইও অফিসের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দু-পক্ষের মাঝে ছিল পুলিশ। গার্ডরেল দিয়ে দু-পক্ষকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের গার্ডরেল ভেঙে, টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কয়েকজন। তখন পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বাইক ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ বিক্ষোভ হটাতে লাঠিচার্জ করে। কিন্তু পরিস্থিতি একসময় হাতের বাইরে চলে যায়। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি আয়েত্তে আনতে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশকেই নিতে হবে।   
এর আগে সোমবারই সিইওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইও অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ভোট সুরক্ষিত করতে বাইরের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। যদিও নতুন নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত এই ফর্ম ৬ প্রসঙ্গে সিইও মনোজ বলেন, ‘সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফর্ম ৬ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। যে অভিযোগ উঠেছে সেটাই স্পষ্ট করছি, এটা সরকারি কার্যালয়। আমরা যেকোনো ডকুমেন্টস রিসিভ করতে বাধ্য। সব জানতেও পারি না। খবর নিয়ে জানি ফর্ম ৬ এসেছে।’ তিনি আরো জানান, ‘আঠারো বছর হওয়ার পর চারবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর, এই চার মাসে তিনি আবেদন করতে পারেন। তবে, যেকোনো সময় ফর্ম ৬ নেওয়া যায়। শেষ মনোনয়নের সাতদিন আগে যেটা নিষ্পত্তি হবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। সিইও কোনো ভোটারের নাম যুক্ত করতে কিংবা বাদ দিতে পারেন না। আমরা ইআরওকে দিয়ে তদন্ত করতে পারি। একজন এক বা একাধিক ডকুমেন্টস দিতে পারেন। ডিইওকে দেওয়ার পর কেউ যদি মনে করেন সিইও অফিসেও দেবেন। আমি কী করতে পারি?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ