Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৫ ডিগ্রিতেও  উষ্ণ কলকাতা, নেপথ্যে জলীয় বাষ্পের ‘কাঁটা’

১৫ ডিগ্রিতেও  উষ্ণ কলকাতা, নেপথ্যে জলীয় বাষ্পের ‘কাঁটা’
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা। অন্যান্য দিনের তুলনায় ফাঁকা ফাঁকা লোকালের কামরা। ট্রেনে উঠেই গা থেকে হাফ জ্যাকেটটা খুলে ফেললেন নিউ বারাকপুরের শ্যামল লোহার। কপালের ঘাম মুছতে মুছতে তাঁর স্বগতোক্তি, ‘এ কী আজব ওয়েদার, কে জানে! সকালে ঠান্ডা লাগছে। একটু বেলা বাড়লে গায়ে আর গরম পোশাক রাখার জো নেই।’ 
Advertisement
সপরিবারে আলিপুর চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন হাওড়ার আমতার বাসিন্দা তরুণ সাহা। অনেক সকালে বেরিয়েছেন বলে প্রত্যেকে সোয়েটার, টুপিতে নিজেদের মুড়ে নিয়েছিলেন। টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো হাঁসফাঁস করছিলেন তিনি। বললেন, ‘যখন বেরিয়েছিলাম বাড়ি থেকে, তখন বেশ ঠান্ডা ছিল। আর এখন তো রীতিমতো ঘাম দিচ্ছে।’ 
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন এই অবস্থা কলকাতা সহ শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায়? আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় আম জনতা আরও বিস্মিত, কারণ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যা দেখাচ্ছে, অনুভূতি হচ্ছে তার উল্টো! রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মরশুমে এই প্রথম এতটা পতন হল পারদের। এদিন দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল আরও কম (১৩.৬)। এছাড়া উলুবেড়িয়াতে ১৪.৪, ক্যানিংয়ে ১৫, ডায়মন্ডহারবারে ১৫.৮, বসিরহাটে ১৪.৫, মগরায়‌ ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা এরকম থাকলে তো শীতের পোশাক গায়ে জড়িয়ে রাখারই কথা। 
তাহলে কেন এত ‘উষ্ণ’ শহর ও শহরতলি? আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বাতাসে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এর অন্যতম কারণ। পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ায় উত্তর-পশ্চিমের শীতল হাওয়ার প্রবাহ দুর্বল হয়েছে। উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হলে বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে পুবালি বাতাসের সক্রিয়তা বাড়ে। তার সঙ্গে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প ঢোকে বায়ুমণ্ডলে। ফলে শীতের অনুভূতি কম হয়। এখন সেটাই হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘উত্তুরে হাওয়া শহর-শহরতলিতে দিনের বেলায় সক্রিয় নয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রিতে নেমে এলে কলকাতায় দিনের বেলায়ও ঠান্ডা অনুভূত হবে।’ 
উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং পুবালি বাতাসের সক্রিয়তার কারণে আজ, সোমবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার বিক্ষিপ্তভাবে হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে আজ। তবে, কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। বুধবার থেকে ফের তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। আগামী সপ্তাহে কনকনে ঠান্ডা টের পাবে দক্ষিণবঙ্গ। 
এদিকে, ঠান্ডা ততটা না লাগলেও শীতের আমেজ চেটেপুটে নিতে রবিবার ছুটির সুযোগ হাতছাড়া করেননি কেউ। চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রাজারহাটের ইকো পার্কে মানুষের ভিড় সেই কথাই প্রমাণ করেছে। এদিন শুধু আলিপুর চিড়িয়াখানাতেই এসেছিলেন প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী। 
সম্পর্কিত সংবাদ