Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫ ডিগ্রি পারদ পতন, মিঠে হাওয়ায় আচমকা মনোরম ভ্যালেন্টাইনস ডে

৫ ডিগ্রি পারদ পতন, মিঠে হাওয়ায় আচমকা মনোরম ভ্যালেন্টাইনস ডে
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা দূর হটেছে। সেই ফাঁক গলে ঢুকছে উত্তুরে হাওয়া। ফলাফল, হঠাৎ ঠান্ডা। ফলে তিনদিন গরম তো পরেরদিন ঠান্ডা। আবহাওয়ার এই খেয়ালখুশি চলনে বেজায় মুশকিলে মানুষ। ঘরে ঘরে ঠান্ডা-গরমজনিত রোগবালাই। ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ হাঁচি-খুসখুসে কাশি-ঘুসঘুসে জ্বরে নাজেহাল রাজ্য।
Advertisement
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, তিনদিন অন্তর পাঁচ ডিগ্রি পতন হচ্ছে পারদের। ফের বাড়ছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ বৃহস্পতি, বুধ ও মঙ্গলবার তা ছিল যথাক্রমে ২৩.৭, ২১.৮ ও ২২.৫ ডিগ্রি। আবার ছয় ফেব্রুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.৬ ডিগ্রি। কিন্তু ফের সাত তারিখ পাঁচ ডিগ্রি কমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছিল ১৭.৩। ফলে এই ঠান্ডা তো এই গরম। 
তবে শুক্রবার পারদ হঠাৎ নেমে যাওয়ায় আচমকা আনন্দের বাঁধ ভাঙে অনেকের। কারণ এদিন ছিল প্রেমদিবস। তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসার দিন উদযাপনে নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। মনোরম আবহাওয়ার কারণে ঘোরাঘুরি ভালোরকম জমে গিয়েছিল। যুগলদের সকলেরই বক্তব্য, সকালে মিঠে রোদ আর বিকেলের পর ফুরফুরে হাওয়া, বেশ আয়েশেই কেটেছে ভ্যালেন্টাইনস ডে। প্রেমদিবসে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সামনের কয়েকদিন পারদ এরকম কমের দিকেই থাকবে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সরে জায়গা করে দিয়েছে উত্তুরে হাওয়াকে। ফলে হু হু করে উত্তরের অতিথির আগমন ঘটছে। সেই কারণেই নামছে এবং নামবে পারদ। পার্থ সাহা নামে ধর্মতলার এক দোকানদার বললেন, ‘রাতে বাড়ি ফেরার পর গরম লাগছে, তখন পাখা চালাই। কিছুক্ষণ পর শীত লাগে। এভাবেই ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে।’ সুকান্ত ঘোষ নামে বেহালার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই দেখুন নাক টানছি। মাথা ঝিমঝিম করেই চলেছে। সোয়েটার গায়ে রাখলে গরম। আবার খুললে ঠান্ডা লাগছে। তাপমাত্রা পাগলের মতো ওঠানামা করছে বলেই না এরকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ তবে ভালোবাসার দিন গোলাপ হাতে বেরিয়ে খুশি যুগলরা। পারদের ওঠানামার দিকে নজরই নেই। মিঠে রোদে কুমোরটুলি, প্রিন্সেপ ঘাট সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিড়। গঙ্গার ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে হৃদয় উষ্ণ রাখার চর্চা চলল। গঙ্গার ঘাটে কাঁধে-কাঁধ ঠেকিয়ে বসে এক যুগল বললেন, ‘আবাহাওয়া ঠান্ডা থাকুক আর রোদ থাকুক সম্পর্কের আকাশে। তাহলেই আর কোনও চিন্তা নেই।’ তবে চিন্তা রয়েছে তাঁদের যাঁরা গ্রামগঞ্জ থেকে সকালবেলা কলকাতা আসেন, রাতে বাড়ি ফেরেন। তাঁদের ব্যাগ ভর্তি সোয়েটার-মাফলার নিয়েই আসতে হয়। কারণ শহরের আশপাশ অঞ্চলে তাপমাত্রা কমের দিকেই। দমদম, উলুবেড়িয়া, বারাকপুর, ডায়মন্ডহারবারে এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৮, ১৫, ১৫.৪ ও ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সল্টলেক ও ক্যানিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ও ১৯.৬ ডিগ্রি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ