Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই বাজিমাত, অভিষেক ও ঈশানের হাফ-সেঞ্চুরি, বুমরাহর ৪ উইকেট

‘টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার, সঞ্জু ভাই সুপারস্টার’... গ্যালারির লক্ষ কণ্ঠ যখন এক সুরে মাতোয়ারা, মাঠের মাঝে তখন ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে সঞ্জু স্যামসন। মুখে তৃপ্তির হাসি, চোখে আনন্দাশ্রু! এই মুহূর্তটার জন্যই বোধহয় অপেক্ষা করছিলেন এতকাল। গত বিশ্বকাপেও ভারতীয় স্কোয়াডে ছিলেন।

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই বাজিমাত, অভিষেক ও ঈশানের হাফ-সেঞ্চুরি, বুমরাহর ৪ উইকেট
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: ‘টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার, সঞ্জু ভাই সুপারস্টার’... গ্যালারির লক্ষ কণ্ঠ যখন এক সুরে মাতোয়ারা, মাঠের মাঝে তখন ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে সঞ্জু স্যামসন। মুখে তৃপ্তির হাসি, চোখে আনন্দাশ্রু! এই মুহূর্তটার জন্যই বোধহয় অপেক্ষা করছিলেন এতকাল। গত বিশ্বকাপেও ভারতীয় স্কোয়াডে ছিলেন। কিন্তু ফাইনাল খেলা হয়নি। কিন্তু এবার ‘চেট্টা’ একাই একশো! সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের পর ফাইনালে নিউজিল্যান্ড— টুর্নামেন্ট জুড়ে একের পর এক বধ্যভূমিতে ঘাতক সেই স্যামসনই। তাঁর ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসেই এদিন ‘ফিনিশ’ কিউয়ি ব্রিগেড। ৯৬ রানে খেতাবি লড়াই হাসতে হাসতে শুধু জিতলই না, বিপক্ষকে দুরমুশও করল টিম ইন্ডিয়া।

Advertisement

রবিবার ফাইনালের মঞ্চটা যেন সঞ্জুর জন্যই সাজানো ছিল। শুরুতে কবিতা কৃষ্ণমূর্তি জাতীয় সঙ্গীতে যখন ‘গাহে তব জয় গাথা’ গাইছেন, স্ক্রিনে ফুটে উঠল সঞ্জুর সঙ্কল্পবদ্ধ মুখ। যেন কাপ জিতিয়েই সব বঞ্চনার জবাব দেবেন। দিলেনও তো! সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে থামতে হলেও কোনও আপশোস নেই। থাকবেই বা কেন, ভারতের জয়গাথার পথ ততক্ষণে যে প্রশস্ত করেই ফেলেছিলেন! আর ব্যক্তিগত কীর্তির চেয়ে দলগত সাফল্যই যে দলটার পাখির চোখ। স্যামসনই বা ব্যতিক্রম হবেন কেন!
ঘরের মাঠে কাপ জিতে ইতিহাস লেখার কৃতিত্ব আদতে প্রাপ্য ব্যাটিং ইউনিটের। যশপ্রীত বুমরাহ ছাড়া বোলিংয়ে সেভাবে কেউ নির্ভরতা জোগাননি। ফাইনালেও সাদামাটা দেখিয়েছে বরুণ চক্রবর্তীকে। উইকেটহীন থেকেছেন অর্শদীপ সিং। ফিল্ডিংয়েও ক্যাচ ফেলার ট্র্যাডিশন অব্যাহত। শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া তো লোপ্পা ক্যাচই ফেললেন। তবে আড়াইশো প্লাস রান পকেটে থাকায় ফিল্ডিং কাঁটা হয়ে বিঁধতে পারেনি। নকআউট ম্যাচগুলোয় সঞ্জু একাই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় হয়ে উঠেছেন নির্ভরতার সেরা আশ্রয়। 
গোটা টুর্নামেন্টে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে কম চর্চা হয়নি। কে জানত, সব জবাবের জন্য আসল মঞ্চকেই বেছে নেবেন যুবরাজের শিষ্য। ওই যে বলে না, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট!’ খেতাবি যুদ্ধে ২১ বলে তাঁর ঝোড়ো ৫১ রানের ইনিংস নিছক আগ্রাসন নয়। ওটা আদতে ‘পাওয়ার প্লে ডমিনেশন’। অভিষেক যখন বেপরোয়া, সঞ্জু তখন ইচ্ছাকৃতভাবেই থাকলেন সংযত। স্ট্রাইক রোটেশনে মনোযোগী, অতিরিক্ত ঝুঁকিতে নেই। দুই ওপেনারের পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই উঠল ৯২। যা বিশ্বকাপে রেকর্ড। 
অভিষেক আউট হতে সঞ্জু ধরা দিলেন খুনে মেজাজে। যোগ্য সঙ্গতে রইলেন ঈশান কিষান। তাঁদের দাপটে ১৫ ওভারে স্কোরবোর্ড ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতেই কার্যত ভেন্টিলেশনে চলে যায় কিউয়ি-ব্রিগেড। শেষ পর্যন্ত উঠল ৫ উইকেটে ২৫৫। যা এই মাঠে টি-২০’তে সর্বাধিক। অবশ্য কিউয়ি ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টনারের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। শনিবার বলেছিলেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় ভেঙে দেওয়াই লক্ষ্য। কোথায় কী! প্রথম এগারোয় রাখলেনই না অফ স্পিনার। কাজচালানো অফ স্পিনার গ্লেন ফিলিপস অবশ্য ছিলেন। কিন্তু তাঁকে এক ওভারের বেশি দিলেনই না বল। নির্ঘাত ‘ব্রেন ফেড’!
স্কোরবোর্ডে ২৫৫ রান মানেই বোলারদের জন্য বাড়তি সুরক্ষা। তার অক্ষর প্যাটেলের জোড়া ধাক্কায় পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই পড়ে যায় তিন উইকেট। বাকি কাজটা বুলডোজারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সারেন যশপ্রীত বুমরাহ। ব্যাটিং পিচেও হয়ে উঠলেন প্রতিপক্ষের ত্রাস। ঘরের মাঠে পকেটে ৪ উইকেট। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। হল না তো কী, ফাইনালের সেরা তিনিই! 
খেলা শুরুর আগে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে রিকি মার্টিন্স, ফাগ্লুনি পাঠক ও সুখবিন্দর সিংদের পারফরম্যান্স নাচে-গানের আবেশে ভরিয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। তা পূর্ণতা পেল তেরঙা জড়িয়ে টিম ইন্ডিয়ার ট্রফি-সেলিব্রেশনে। নারীদিবসে মোতেরা মাতল ‘মা তুঝে সালাম’ সুরে!

সম্পর্কিত সংবাদ