


নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: জিলিপির কথা শুনলে জিভে জল আসে সবারই। আর তা যদি হয় কেশপুরের মুগের জিলিপি, তবে তো কথাই নেই। নববর্ষে প্রচুর অর্ডার আসায় কেশপুরে বিভিন্ন দোকানে মুগের জিলিপি তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেশপুরের এই মুগের জিলিপি জিআই ট্যাগ পেতে পারে। এনিয়ে প্রশাসনিকস্তরে চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে।
জিলিপি বিক্রেতারা জানালেন, বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় জিলিপির দামও বেড়েছে। কিন্তু তা বলে বিক্রি কমেনি। দোকানে জিলিপি তৈরি হলে এক নিমেষে তা শেষ হয়ে যায়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জিলিপির অর্ডার আসে। যদিও এই মুগের জিলিপির সেভাবে প্রচার নেই।
এদিন কেশপুর বিডিও অফিসে পাশে ছোট্ট দোকানে মুগের জিলিপি তৈরি করছিলেন দিব্যেন্দু রায়। তিনি বলেন, এই জিলিপির ভালো চাহিদা রয়েছে। সারাদিনে প্রচুর বিক্রি হয়। এই এলাকার বহু পুরনো কিছু দোকানে এই জিলিপি রাখা হয়। বংশপরম্পরায় আমরা মুগের জিলিপি তৈরি করছি। প্রতিদিন গড়ে ২০০পিস জিলিপি বিক্রি করি। অর্ডার এলে এক থেকে দু’হাজার পিস মুগের জিলিপি তৈরি করতে হয়। এই জিলিপির মার্কেটিং ভালো হলে বিক্রি আরও বাড়বে।
মেদিনীপুরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সঞ্জয় দাস এদিন কেশপুরে মুগের জিলিপি কিনছিলেন। তিনি বলেন, কেশপুর এলেই এই জিলিপি কিনে বাড়ি ফিরি। মেদিনীপুর শহরের কয়েকটি দোকানে বিক্রি করলেও কেশপুরের মুগের জিলিপি স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। আগে অনেক দোকানেই এই জিলিপি পাওয়া যেত। এখন পুরনো কারিগরদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কম দোকানেই এটা মেলে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল, কেশপুর, ডেবরা মুগের জিলিপির জন্য বিখ্যাত। এছাড়া, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হুগলী জেলার চন্দননগরের মুগের জিলিপি বিখ্যাত। কেশপুরের মুগবাসান, কেশপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই জিলিপি পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীরা জানালেন, এই জিলিপি তৈরির জন্য প্রথমে ভালোমানের মুগ ডাল কিনে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর জল ঝরিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে সেই মুগ ডালের পেস্ট তৈরি করা হয়। তারপর জিলিপির আকারে ছাঁকা তেলে ভেজে চিনির পাতলা রসে ভিজিয়ে মুগডালের জিলিপি তৈরি করা হয়।
এক জিলিপি ব্যবসায়ী বলেন, এই জিলিপির মান মুগ ডালের গুণমানের উপর নির্ভর করে। তবে মুগ ডাল, চিনির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই অগত্যা জিলিপির দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে জিলিপির দাম পাঁচ টাকা হলেও এখন সাত টাকা পিস দামে জিলিপি বিক্রি করি। মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কেশপুরের মুগের জিলিপির গুণমান খুব ভালো। এই জিলিপি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। পয়লা বৈশাখে প্রচুর বিক্রি হয়। আগামী দিনে এই জিলিপি জিআই ট্যাগ পাবে বলে আমি আশাবাদী।-নিজস্ব চিত্র