দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে দু’টি রেল প্রকল্প। উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে আরও তিনটে রুটে রেললাইন প্রকল্পের ডিপিআর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক। শুক্রবার সংসদে এই কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তালিকায় রয়েছে মালদহ টাউন - কুমেদপুর, কুমেদপুর-আলুয়াবাড়ি এবং ঠাকুরগঞ্জ-শিলিগুড়ি। এর ফলে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগও শক্তিশালী হবে। রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, রেলকে অন্যতম হাতিয়ার করে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গকেই পাখির চোখ করতে চাইছে কেন্দ্রের সরকার পক্ষ।
শুক্রবার বাংলার রেল প্রকল্প নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য মৌসম নূর। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, নিউ জলপাইগুড়ি-কলকাতা করিডরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ইতিমধ্যেই দু’টি রেল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সেগুলি হল, আলুয়াবাড়ি-নিউ জলপাইগুড়ি থার্ড এবং ফোর্থ লাইন (৫৭ কিলোমিটার), আলুয়াবাড়ি-ঠাকুরগঞ্জ ডাবলিং (২০ কিলোমিটার)। এই প্রসঙ্গেই রেলমন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আরও তিনটি রুটে ডিপিআর তৈরি করতে সমীক্ষার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ মালদহ টাউন-কুমেদপুর রুটে তৈরি হবে থার্ড এবং ফোর্থ লাইন। ১১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমেদপুর-আলুয়াবাড়ি রুটেও তৈরি হবে থার্ড এবং ফোর্থ লাইন। অন্যদিকে, ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঠাকুরগঞ্জ-শিলিগুড়ি রুটে হবে ডাবলিংয়ের কাজ।
অর্থাৎ, উত্তর বাংলায় আরও ২৩৪ কিলোমিটার অংশে রেললাইন পাতার জন্য বিস্তারিত প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির কাজে হাত দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ইউপিএ আমলে বাংলায় বিভিন্ন রেল প্রকল্পে বছরে গড়ে মাত্র ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ হতো। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরেই বাংলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।