


নয়াদিল্লি: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে বিচরণ করতেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কয়েকজন ছাড়া তাঁর গতিবিধির খবর জানতে পারত না কেউই। শনিবার ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যু কীভাবে হল, এখনও বিশ্বজুড়ে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। ইজরায়েলের সেই ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর কিছুটা খোলসা করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার।
তাঁর কথায়, ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ইজরায়েলের অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ ইরান। নয়ের দশকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা খামেনেইয়ের হাতে আসার পর থেকে সেই মাথাব্যাথা বহুগুণ বেড়েছে। তখন থেকেই তাঁকে সরানোর প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে ইজরায়েল। শনিবার সে কাজে সাফল্য মিলেছে। আজারের কথায়, ‘বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে খামেনেই এবং তাঁর পার্ষদদের গতিবিধি বুঝতে।’
আজার জানান, ইরানের প্রশাসন, সেনার কাজকর্ম এবং তাদের পরবর্তী কার্যক্রমকে বুঝতে একটি বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগ তৈরি করে ইজরায়েল। ইরানের ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তাঁদের উপর থাকা দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার রয়েছে, সবকিছুই বুঝতে হয়েছে ধৈর্য্য ধরে। তার চেয়েও বড়ো কাজ ছিল ইরানি কর্তাব্যক্তিদের লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করা। পাশাপাশি ইরানের দিক থেকে আসা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রতিহত করার মতো পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়। এর পরের ধাপ ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বোকা বানিয়ে হামলার পরিকাঠামো তৈরি করা। এসব কাজে মার্কিন সহায়তা যে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে, সেই জল্পনাতেও সিলমোহর দিয়েছেন আজার। তিনি বলেন, ২০২০ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিতে আরব দেশগুলিকে ইরানের পাশ থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এসব কাজে সহায়ক ছিল পশ্চিম এশিয়ায় নিয়োজিত মার্কিন সেনার সেন্টকম। এত কিছুর পর সুযোগের অপেক্ষায় ছিল আমেরিকা-ইজরায়েল। শনিবার সেই সুযোগটাই হাজির হয়।
খামেনেই পরবর্তী সময়ে ইরানের শাসন ক্ষমতার রাশ কি ইজরায়েল হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে? আজারের সাফ কথা, ‘ভবিষ্যতে ইরানের শাসন ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা আমরা ঠিক করব না। ইরানের মানুষকেই তা ঠিক করতে হবে।’ তাঁর মতে, ইরানের মানুষ খামেনেই শাসনের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আন্দোলন করছেন। তাঁদের আরও বেশি স্বাধীনতা প্রাপ্য। তবে ইরানের স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো রসদ ইজরায়েলের নেই। তাই বহির্বিশ্বের সহায়তা দরকার স্বাধীনতাকামী ইরানের।