


নয়াদিল্লি: পিছিয়ে গেল নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড। এক ইয়েমেনি নাগরিককে খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল সেদেশের আদালত। আজ সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই সেই শাস্তি সাময়িক স্থগিত করা হল। এই খবরে সিলমোহর দিয়েছে ইয়েমেনের স্থানীয় প্রশাসন। তবে কতদিনের জন্য এই স্থগিতাদেশ, তা স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, ভারতের কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছিলেন কেরলের এক ধর্মগুরুও। তিনিই নিহত ইয়েমেনি নাগরিকের পরিবারকে ব্লাডমানির জন্য রাজি করান।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে ফাঁসির বিকল্প হিসেবে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। তারই পোশাকি নাম ব্লাড মানি। সেক্ষেত্রে মৃতের পরিবারকে রাজি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের অঙ্কও ঠিক করে নিহতের পরিবার। নিমিশার পরিবার ক্ষতিপূরণ বাবদ এক কোটি টাকা (ইয়েমেনের মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি) মৃতের পরিবারকে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মৃতের পরিবার তাতে রাজি হয়নি বলে সূত্রের খবর। এবার দু’পক্ষের মধ্যে ব্লাড মানির রফা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
কেরলের নার্সকে বাঁচাতে প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিল ভারত সরকার। তবে হুতি বিদ্রোহীদের সানা শহরে বন্দি রয়েছে নিমিশা। হুতিদের সঙ্গে ভারতের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও নিমিশার পরিবারকে যাবতীয় সাহায্য করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, ব্লাড মানিতে নিহতের পরিবারকে রাজি করানোর জন্য অতিরিক্ত সময় আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। কূটনীতির পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ায় ছিল আইনি জটিলতাও। ইয়েমেনি জেল কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউটারর্স অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল সরকার।