Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দার্জিলিং, অশ্বমেধের ঘোড়া, স্বপ্নের জগৎ থেকে পটচিত্র, নানা থিমে জমজমাট উত্তর শহরতলির কালীপুজো

শৈলশহর দার্জিলিং থেকে স্বপ্নের জগৎ, হারিয়ে যাওয়া পটচিত্র, অশ্বমেধের ঘোড়া, পরিবেশে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার বার্তার মতো নানা থিমে সেজে উঠেছে উত্তর শহরতলি

দার্জিলিং, অশ্বমেধের ঘোড়া, স্বপ্নের জগৎ থেকে পটচিত্র, নানা থিমে জমজমাট উত্তর শহরতলির কালীপুজো
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শৈলশহর দার্জিলিং থেকে স্বপ্নের জগৎ, হারিয়ে যাওয়া পটচিত্র, অশ্বমেধের ঘোড়া, পরিবেশে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার বার্তার মতো নানা থিমে সেজে উঠেছে উত্তর শহরতলি। মণ্ডপ, প্রতিমা সবেতেই চমক রেখেছেন কালীপুজোর উদ্যোক্তারা। আলোকমালায় দর্শনার্থীদের মোহিত করতে চেষ্টার কসুর করেনি কেউ। চন্দননগরের আলো যেমন লেগেছে, তেমনই স্থানীয় ডেকরেটার্সরাও আসরে নেমেছে। কোথাও আবার জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

Advertisement

ঘোলার বিদ্যাসাগরপল্লি ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের কালীপুজো এবার ২৮ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘এক টুকরো দার্জিলিং’। সবুজে ঘেরা পাহাড়ের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। সেখানে দেখা যাবে চলন্ত রোপওয়ে, টয় ট্রেন ও ঝর্ণা। পাহাড়ের কোলে চা বাগান ও পাহাড়ি বাড়িও দর্শনার্থীদের বিস্ময় তৈরি করবে। পাহাড় কেটে তৈরি টানেলের মতো করেই বানানো হয়েছে মণ্ডপের প্রবেশপথ। মাতৃ মূর্তি দেখলে মনে হবে, যেন পাথর খাদাই করে তৈরি। পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথা কাউন্সিলার অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, দার্জিলিংয়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চন্দননগরের বাহারি আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মন কাড়বে। মুড়াগাছা চড়কতলার আমরা ক’জনের কালীপুজো এবার ৩৮ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘ভারসাম্য’। একাধিক চাকা, দাঁড়িপাল্লা, গাছের পাতা সহ নানা সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। প্রবেশদ্বারের উপরে থাকবে সিংহাসন। মণ্ডপের মধ্যে ঘুড়ি, বিশালার লাট্টু সহ নানা সামগ্রী রয়েছে। এছাড়াও মণ্ডপে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের রূপও প্রত্যক্ষ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। শুধু মণ্ডপ নয়,  ১২ ফুটের প্রতিমাতেও রয়েছে চমক। মায়ের শরীর থেকে ঠিকরে বেরচ্ছে জ্যোতি।
উত্তর দমদমের মাঝেরহাটি যুব সংঘের মাঠে নিমতা জোনাকির শ্যামাপুজোর মণ্ডপ চমক তৈরি করেছে। ১৩ বছরে পা দেওয়া পুজোর থিম ‘শক্তির আরাধনায়, শান্তির বার্তা’। বিশালাকার রথের আদলে মণ্ডপ। সামনে রয়েছে অশ্বমেধের ঘোড়া। ঘোড়ার রশি ধরে রেখেছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। রথের চূড়ার দু’দিকে রয়েছে বিশালাকার দুই ময়ূর। রথের কারুকাজ ও আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মোহিত করবে। পুজোর প্রধান উপদেষ্টা উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, যুদ্ধ নয়, শান্তির ললিত বাণী নিয়ে এগিয়ে যাবে অশ্বমেধের ঘোড়া। 
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২ নম্বর রেলগেট অধিবাসীবৃন্দ ক্লাবের শ্যামাপুজো এবার ১৬ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘স্বপ্নের জগৎ’। ৩০ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। মুক্ত আকাশে পাখিরা উড়ছে, আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ, তার ভিতর উড়ছে পরীর দল, বাগানে নৃত্য করছে ময়ূর। এখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে পদ্মপুকুর, সেখানে খেলছে মাছ। মা আসছেন সাবেকি সাজে। ক্লাবের সম্পাদক মনোজ দেবরায় ও অন্যতম কর্মকর্তা সৌমেন ভট্টাচার্য বলেন, হিংসা, বিদ্বেষ, দুঃখ, যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ জগৎ। আমরা মণ্ডপে স্বপ্নের জগৎ তৈরি করেছি। দর্শনার্থীরা অভিভূত হবেন। দমদম রোডে অগ্রগামী ক্লাবের সর্বজনীন শ্যামাপুজোর থিম ‘পটের ইতিকথা’। পিংলা ও কালীঘাটের পটচিত্রে সেজে উঠেছে গোটা মণ্ডপ। বিশালাকার মাটির সরা, কুলো ও প্লাইয়ের উপর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পটের কাজ। মা আসছেন পটচিত্রের আদলে। পুজো কমিটির সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, হারিয়ে যেতে বসা পটশিল্প বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য। সেই পটের সৌন্দর্য্যে সেজে উঠেছে মণ্ডপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ