


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আজ কালীপুজো। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে কালীক্ষেত্র দক্ষিণেশ্বর রূপ নেবে জনসমুদ্রের। এই বিশেষ তিথিতে মা ভবতারিণীর মন্দির সেজে উঠেছে নতুন রূপে। মায়াবী আলোর ঝরনাধারায় ভেসে গিয়েছে মন্দির চত্বর। ভক্তদের চাপ সামলাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বারাকপুর কমিশনারেট ও মন্দির কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি নৈহাটির ‘বড়ো মা’ মন্দিরসহ উত্তর শহরতলির বিভিন্ন প্রাচীন কালীমন্দিরেও মাতৃ আরাধনার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। সাতসকালেই ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে প্রতিটি মন্দির।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে সারাবছরই ভক্তদের ভিড় থাকে। কালীপুজোর দিন একবার মায়ের রূপ দর্শনে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় উন্মাদনা। মায়ের টানে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের ভক্তরাও। রবিবার মধ্যরাত থেকে ভক্তরা মন্দিরের দুটি প্রবেশ পথে রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতো সোমবাট সকাল ৬টায় মন্দিরের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দর্শনার্থীরা দুটি প্রবেশ পথ দিয়ে মায়ের মন্দিরে ঢুকবেন। সারাদিন নির্দিষ্ট তিথি মেনে মায়ের পুজো হবে। তবে সাড়ে ১০টায় গঙ্গায় ঘটস্নানের পর কালীপুজোর দিনের মায়ের বিশেষ পুজো শুরু হবে। প্রচলন রয়েছে, ওইসময় রাতে যে জোয়ারের জল আসে, সেই জলে ঘটোত্তলন করে তা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই জল দিয়েই মাকে স্নান করানোর পর শুরু হয় বিশেষ পুজো। মা সাজবেন আগে থেকে অর্ডার দিয়ে বানানো স্পেশাল বেনারসি ও কয়েকশো ভরির সোনার গহনায়। মায়ের ভোগে সাদা ভাত, ঘি ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচরকম তরকারি, পাঁচরকম মাছ, চাটনি, খিচুড়ি, পায়েস, পাঁচরকম মিষ্টি সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হবে। রাত দেড়টা নাগাদ পুজো শেষ হওয়ার পর শুরু হবে হোমযজ্ঞ। তারপর হবে অঞ্জলি।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ১৭০ বছর ধরে যে নিয়ম মেনে মায়ের পুজো হচ্ছে, এবারও সেই রীতি ও নিয়ম মেনেই মাতৃআরাধনা হবে। মায়ের মন্দিরে জনজোয়ারের কথা মাথায় রেখে পুলিশের তরফেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যানজট ও ভিড় সামাল দিতে রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও আশপাশের এলাকা জুড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ছিনতাই, ইভটিজিং রুখতে থাকছে সাদা পোশাকের পুলিশ ও মহিলা পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। গঙ্গায় দুর্ঘটনা এড়াতে গঙ্গাবক্ষে রিভার ট্রাফিক পুলিশ টহল দেবে। এছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর বিশেষ দলও রাখা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। পুলিশের পাশাপাশি মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরাও থাকবেন ভক্তদের সহযোগিতায়। পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের নিরাপত্তায় একজন ডিসি পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে আড়াইশোর উপরে পুলিশ থাকবে।