Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বঙ্গোপসাগরে ফের তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়, রাজ্যে আপাতত কোনও সতর্কবার্তা নেই

আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) নাগাদ বঙ্গোপসাগরে এই মরশুমের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হতে চলেছে। রবিবার জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘সেন-য়ার’ তৈরি হওয়ার পর এটি কোন দিকে যাবে বা এর তীব্রতাই-বা কতটা হবে, সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এদিন কিছু জানায়নি।

বঙ্গোপসাগরে ফের তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়,  রাজ্যে আপাতত কোনও সতর্কবার্তা নেই
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) নাগাদ বঙ্গোপসাগরে এই মরশুমের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হতে চলেছে। রবিবার জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘সেন-য়ার’ তৈরি হওয়ার পর এটি কোন দিকে যাবে বা এর তীব্রতাই-বা কতটা হবে, সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এদিন কিছু জানায়নি। এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। সেখানকার স্থানীয় ভাষায় শব্দটির অর্থ সিংহ। অর্থাৎ ‘সিংহ’ জন্ম নেওয়ার পর কোথায় গিয়ে গর্জন করবে, এখনও অনিশ্চিত। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ কোন দিকে হবে সেটা বলতে আরও দিনকয়েক লাগবে। তবে আপাতত দিনসাতেক (২৯ নভেম্বর পর্যন্ত) এরাজ্যে কোনও আবহাওয়া বিষয়ক সতর্কতা নেই। গোটা রাজ্যে ওইসময় পর্যন্ত শুকনো আবহাওয়া থাকবে।

Advertisement

নভেম্বর মাসের বাকি দিনগুলিতে দক্ষিণবঙ্গে ও উত্তরবঙ্গের বড়ো অংশ জুড়ে শীতের মাত্রা বৃদ্ধির বিশেষ আশা নেই। আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নভেম্বরের মধ্যে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামার সম্ভাবনা নেই। রবিবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার-বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। তবে সেক্ষেত্রেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কলকাতায় ১৭ ডিগ্রির আশাপাশে থাকবে। উত্তুরে হাওয়া খুব একটা সক্রিয় না-থাকায় তাপমাত্রা কমছে না। কয়েকদিনের মধ্যে পুবালি বাতাস সক্রিয় হবে এবং তার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে পারে। 
ইতিমধ্যে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও লাগোয়া এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। আপাতত এটির অভিমুখ থাকবে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে। আজ সোমবার এটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তারপর ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ বুধবারের মধ্যে এটি শক্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এরপর তার অভিমুখ কী হবে, সেই ব্যাপারে  আবহাওয়া দপ্তর কিছু জানায়নি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি অভিমুখ পরিবর্তন ছাড়াই এগোলে দক্ষিণ ভারত উপকূলের (তামিলনাড়ু-অন্ধ্রপ্রদেশ) দিকে যাবে। কিন্তু আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও কোনও মডেলে বলা হচ্ছে, সিস্টেমটি পরবর্তীকালে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর আরও শক্তি বাড়াবে। তারপর ডিসেম্বরের একদম শুরুতে এটি অভিমুখ পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অভিমুখ পরিবর্তন করে মধ্য ও লাগোয় উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর চলে আসতে পারে। ওইসময় সিস্টেমটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তেও পারে। 
এই পরিস্থিতিতে রবিবারের পর আগামী দিনসাতেক ঘূর্ণিঝড়ের কোনও প্রভাব রাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে পড়বে না। আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তারপর কী হবে? নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতির উপর। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের আগামী সাতদিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে, সেটা জানানো হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে অনেকটা আগেই। এইসময় মাঠে রয়েছে পাকাধান এবং বিভিন্ন রকম সবজি। বেশি বৃষ্টি হলে তাতে ফলনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই চাষিরা আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার সময় যাতে পান, তা দেখা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ