


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গতমাসে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। তাতে দু-তিনজনের মৃত্যু হয়। ওই উপকূলেই অতীতে ঘূর্ণিঝড়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর ইতিহাস আছে। ঘূর্ণিঝড়ে ১৮৩৯ সালে ৩ লক্ষ এবং তারপরে ১৯৭৭-এ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যুর নজির রয়েছে। ঝড় দুটি হয়েছিল নভেম্বরে। ১৯৯৯-এর অক্টোবরের শেষদিনে ওড়িশায় সুপার সাইক্লোনে মারা যায় ১০ হাজার মানুষ। কিন্তু পরবর্তীকালে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু অনেক কমেছে। আবহাওয়া দপ্তরের শীর্ষকর্তাদের দাবি, এটা পূর্বাভাস প্রদান ব্যবস্থার উন্নতিরই সাফল্য। আবহাওয়া দপ্তরের মুখপত্র ‘মৌসুম’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৩-০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত হতে শুরু করে। আবহাওয়া দপ্তরের আধুনিকীকরণের ফলে ২০০৯ সাল থেকে তা আরও উন্নত হয়। প্রযুক্তির প্রয়োগেই পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থার এই অভাবনীয় উন্নতি। ডপলার রেডার কেন্দ্রগুলি ও স্যাটেলাইট থেকে তথ্য ও ছবি পাওয়ার জন্যই এটা সম্ভব হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ব্যবস্থা ক্রমশ কতটা উন্নত হয়েছে তা সবিস্তারে জানানো হয়েছে এই রিপোর্টে। এই প্রসঙ্গে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়লেও, এই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এরাজ্যেও। ‘ডানা’ উপকূলে আছড়ে পড়ার স্থান ও তীব্রতা সংক্রান্ত পূর্বাভাস, ২০১৯-২৩ মধ্যেকার ঘূর্ণিঝড়গুলির তুলনায় আরও কতটা সঠিক ছিল, তা পরিসংখ্যানসহ জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের পূর্বাভাস প্রদান উন্নত হচ্ছে ২০০৩ থেকে। ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, ২৪ ঘণ্টা আগে তার পূর্বাভাসের ত্রুটি প্রতিবছর ৫.২ কিমি হারে কমছে। পূর্বাভাস প্রদানে দক্ষতা বাড়ছে ২.৮ শতাংশ হারে। পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার সুবাদে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু আগামী দিনে ‘শূন্যে’ নেমে আসবে বলেই আশা করেন আবহাওয়া দপ্তরের ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর তার চরিত্রের জন্যই অধিক ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। এই সমুদ্রের গভীরতা কম এবং উপকূল ফানেলের মতো হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় বেশি তীব্র হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, ঘূর্ণিঝড়ে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় (যার মধ্যে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর পড়ে) গত ৩০০ বছরে ৩ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এমাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা এখনও আছে। অতীতে দেখা গিয়েছে, নভেম্বরের শেষদিকেও বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে বড়ো ধরনের বিপর্যয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আপাতত জানিয়েছে, আগামী ২১ নভেম্বর নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। এটি দুদিন পর শক্তি বাড়িয়ে হবে গভীর নিম্নচাপ। সেটির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি আরও পরিষ্কার হবে আগামী সপ্তাহে।