


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা রক্ষায় সিআরপিএফ মোতায়েন থাকে। এই বাহিনীর খরচ বাবদ রাজ্য সরকারের কাছে সিআরপিএফের প্রাপ্য ২,০৯৪ কোটি টাকা। সেই টাকা চেয়ে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে চিঠি দেওয়া হলো পুলিস ডিরেক্টরেটকে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া না মেটানোর কারণেই টাকার অঙ্ক এই জায়গায় পৌঁছেছে বলে রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর। এই বিপুল পরিমাণ টাকা আসবে কোথা থেকে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পুলিসকর্তাদের। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সিআরপিএফের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
জঙ্গলমহল, বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন জায়গায় সিআরপিএফকেই নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সময় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ডিউটিতেও তাদের নামানো হয়। ভোটের সময় এই বাহিনীর সদস্যরা ডিউটি করেছেন। কেন্দ্রীয় কোনও বাহিনীকে দিয়ে ডিউটি করানো হলে তার জন্য নির্দিষ্ট ‘চার্জ’ দিতে হয় রাজ্য প্রশাসনকে। প্রতি ছ’মাস অন্তর এই বিল সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেয় সিআরপিএফ। তবে বকেয়া দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও নিরাপত্তার কথা মাথায় কখনও বাহিনী তুলে নেয় না কেন্দ্রীয় সরকার। সিআরপিএফের বিল রাজ্য পুলিস ডিরেক্টরেটে এলে তারা সেটি পাঠিয়ে দেয় নবান্নে অর্থদপ্তরে। তারা টাকা ছাড়লেই তবেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া যায়। রাজ্য পুলিস সূত্রের খবর, বিগত পাঁচ বছর ধরে সিআরপিএফ একের পর এক বিল পাঠিয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকারকে। পুলিসও যথারীতি তা অর্থদপ্তরের কাছে পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনও টাকাই বরাদ্দ হয়নি। এমনকী, বিষয়টি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্যই হয়নি বলে খবর। ফলে বকেয়া জমতে জমতে এখন কার্যত পাহাড় হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার ‘রিমাইন্ডার’ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, তাতেও কোনও হেলদোল নেই রাজ্য প্রশাসনের। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না মেটালে জরিমানা ধার্য করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী সূত্রে খবর, জরিমানা বাবদ যা প্রাপ্য, সেই টাকাও এক বছর ধরে মিলছে না। দেশের সিংহভাগ রাজ্য অবশ্য এই খাতের টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিসের তরফে পাঠানো চিঠি নিয়ে এতদিনে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। মোট বকেয়ার কিছুটা অংশ মেটানোর জন্য অর্থদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে খবর। খুব শীঘ্রই তা মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক কর্তারা।