


নয়াদিল্লি ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের মাধ্যমেই দেশের গোপন তথ্য পাচার হচ্ছিল শত্রু দেশে! পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে ভারতের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য তুলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল এক সিআরপিএফ জওয়ানকে। মোতিরাম জাট নামে ওই জওয়ানকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার এনআইএ জানিয়েছে, মোতিরাম তার বাহিনীতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিল। কর্মসূত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তথ্য পাচার করেছে সে। ঘটনাচক্রে, ধৃত এই জওয়ানের পোস্টিং ছিল পহেলগাঁওতেও। সেখানে জঙ্গি হামলার ছ’দিন আগে তার অন্যত্র বদলি হয়েছিল। ধৃত এই জওয়ানকে ৬ জুন পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ আদালত। ইতিমধ্যেই মোতিরামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের আবহে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রয়েছে লাস্যময়ী ট্র্যাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রাও। কিন্তু চরবৃত্তির অভিযোগে দেশের অন্যতম নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর আইএসআইয়ের হাত কতদূর পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এনআইএ সূত্রে খবর, ২০২৩ সাল থেকে আইএসআইয়ের একাধিক কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে মোতিরাম। এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পড়শি দেশে পাচার করেছে সে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও সৌধ এবং বিমানবন্দর। তথ্য পাচারের জন্য পাকিস্তান থেকে বিভিন্নভাবে মোতিরামকে টাকাও পাঠানো হয়েছে। আইএসআইয়ের তরফে তাকে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। সিআরপিএফের অন্য সদস্যদেরও তথ্য পাচারের কাজে লাগতে মোতিরামকে প্রস্তাব দিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা। এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মোতিরাম তার একাধিক সহকর্মীকে গুপ্তচরবৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত একাধিক সিআরপিএফ কর্মীও রয়েছে। তাঁদের মোতিরাম জানিয়েছিল, তারা যে সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রহরার দায়িত্বে রয়েছে, সেখানকার তথ্য পাঠাতে হবে। কোথায় কতটা নিরাপত্তা রয়েছে, কোথায় ভিড় বেশি থাকে, সিআরপিএফের গতিবিধি কী-এই সব তথ্যও পাঠাতে বলা হয়। এর বদলে চাহিদামতো টাকা দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়।
মোতিরামের চরবৃত্তির হদিশ মিলল কীভাবে? সূত্রের খবর, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের গতিবিধির উপরেও নজর রাখা শুরু হয়। সমাজমাধ্যমে মোতিরামের বেশ কিছু কার্যকলাপে সন্দেহ দেখা দেয়। নজরদারি চালিয়ে জানা যায়, সে একাধিকবার পাকিস্তানের বিভিন্ন নম্বরে ফোন করেছে। পাকিস্তান থেকেও তার কাছে ফোন এসেছে। মোতিরামের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগ থাকার প্রমাণ মেলে।