নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শুধুমাত্র বকনা বাছুর জন্মানোর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু গো-পালকরা এই প্রকল্পে বিশেষ সাড়া দেননি। শুধুমাত্র বকনা বাছুর পাওয়ার সুযোগ থাকলেও হুগলির গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ গো-পালক এই সরকারি প্রকল্পের সুযোগ নিতে চাইছেন না। গোটা বিষয়টি নিয়ে কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না জেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্তারা। এই ঘটনার জেরে দুধ উৎপাদনের হার বৃদ্ধির পরিকল্পনা মার খাচ্ছে। কী কারণে গো-পালকদের অনীহা, তা নিয়ে কোনও মহলই স্পষ্ট যুক্তি দিতে পারেনি।
চুঁচুড়ার এক গো-পালক বলেন, সদ্য এই প্রকল্প চালু হয়েছে। তাই অনেকেই একটু সময় নিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, ২০২৩ সাল থেকে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে বিস্ময়কর হল, গো-পালকদের আচরণ। তাঁরা অনেকেই রাজ্য সরকারের কৃত্রিম প্রজননের সুযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননে বকনা বাছুরই জন্মাবে বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও তার সুযোগ নিতে চাইছেন না তাঁরা। কেন, তার কারণ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। হুগলি জেলা পশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবীণ চিকিৎসক জয়জিৎ মিত্র বলেন, নতুন এই প্রকল্প বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ।
রাজ্যে বহু বছর ধরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গোরুর বংশবৃদ্ধি চলছে। হিমায়িত বীজ বিশেষভাবে গোরুর শরীরে পাঠিয়ে তাকে গর্ভবতী করা হয়। কিন্তু সেই পদ্ধতিতে বকনা ও এঁড়ে— দু’রকম বাছুর হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার শুধু বকনা বাছুর জন্মানোর ব্যবস্থা করেছে। সেই জন্য ভিন রাজ্যের ল্যাবরেটরি থেকে হিমায়িত বীজ আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গাভীকে সেই বীজ দিয়ে গর্ভবতী করার পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গো-পালকরা এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় কথা, তার কারণ নিয়েও রীতিমতো অন্ধকারে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্তারা।