Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

উত্তরকাশীর বিপর্যয়ে ৫ লক্ষের বদলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ৫ হাজার, প্রত্যাখ্যান গ্রামবাসীদের, বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন

পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। ধারালির ধ্বংসস্তূপ আজও হাতড়ে বেড়াচ্ছে উদ্ধারকারী দল। খোঁজ চলছে মৃতদেহের। পাথর, আর পাঁকের আড়ালে আর কেউ নেই তো?

উত্তরকাশীর বিপর্যয়ে ৫ লক্ষের বদলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ৫ হাজার, প্রত্যাখ্যান গ্রামবাসীদের, বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১০:০৮
Prefer us on Google

উত্তরকাশী: পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। ধারালির ধ্বংসস্তূপ আজও হাতড়ে বেড়াচ্ছে উদ্ধারকারী দল। খোঁজ চলছে মৃতদেহের। পাথর, আর পাঁকের আড়ালে আর কেউ নেই তো? আর দূরে চলছে বচসা। প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের একাংশের। কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, ‘সর্বস্ব হারিয়েছি আমরা। কাছের মানুষ, সাধের বাড়ি, জমি-জায়গা, টাকা-পয়সা... সবকিছু। সরকার বলেছিল ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে তুলে দেবে। আর পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়েই খালাস! এই টাকায় কী হবে?’ ‘এভাবে আমাদের অপমান করা হচ্ছে’— সরকারের চেক ফিরিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলছিলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আর একজন। এটাই বর্তমান দৃশ্য। বিপর্যস্ত উত্তরকাশীর।

Advertisement

ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত নিশ্চিহ্ন উত্তরকাশীর ধারালির বিস্তীর্ণ অংশ। সেতু, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধুয়ে মুছে সাফ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের তরফে গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ লক্ষের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। কিন্তু সর্বহারাদের আর্তনাদ যে মুখ্যমন্ত্রীর ঠান্ডাঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছয়নি, শুক্রবার তারই প্রমাণ মিলল। সর্বস্ব হারানোর সান্ত্বনা পুরস্কার মাত্র পাঁচ হাজার টাকা! এদিন উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকারের চরম অব্যবস্থা ও গাফিলতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আম জনতা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, ক্ষতিপূরণের নামে এই প্রহসন কেন? এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, ‘বিপর্যয়ের পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। চারদিন কেটে যাওয়ার পর মোমবাতির প্যাকেট হাতে এসেছে। সরকার খাবার পাঠানোর কথা বলেছিল। তাও আসেনি। দু’-মুঠো খাবারের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছি আমরা। ভিক্ষে চাইছি। তারপর মাত্র পাঁচ হাজার টাকা করে হাতে ধরিয়ে দিল?’ এই ক্ষোভ জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকের অফিসের বাইরে আছড়ে পড়েছে বিক্ষোভের আকারে। কান পাতলে চত্বরজুড়ে শুধু সরকার বিরোধী স্লোগান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে ধামির সরকার ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। উত্তরকাশীর জেলাশাসক প্রশান্ত আর্য বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করা হবে। সবটা খতিয়ে দেখার পর পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ মিলবে।’
উত্তরকাশীর এই ঘটনা চলতি বছরের শুরুতে পূর্ণকুম্ভের রক্তাক্ত স্মৃতি ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। মৃতদের পরিবারের তরফে অভিযোগ ছিল, ২৫ লক্ষের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও যোগী সরকারের তরফে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডের বিরোধী শিবিরের কথায়, এ আর নতুন কী? যে সরকার কুম্ভে মৃতদের সংখ্যা নিয়ে কারচুপি করে, পুষ্পবৃষ্টি করিয়ে রক্তের দাগ ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করে, ক্ষতিপূরণ নিয়ে কারচুপি করা সেই সরকারের কাছে তো বাঁ হাতের খেল।

সম্পর্কিত সংবাদ