Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসএলআর হাতে ছবি পোস্ট, সাসপেন্ড কমিশনের ‘পছন্দের’ ওসি কালীঘাট

এবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। নির্বাচন পর্বে তাঁকে কালীঘাটের ওসি পদে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

এসএলআর হাতে ছবি পোস্ট, সাসপেন্ড কমিশনের ‘পছন্দের’ ওসি কালীঘাট
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। নির্বাচন পর্বে তাঁকে কালীঘাটের ওসি পদে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে সরিয়ে নতুন ওসি হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল শেষদফার নির্বাচনের দিন ভবানীপুর কেন্দ্রে গৌতম দাস ‘অতিসক্রিয়’ হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিল জোড়াফুল শিবির। ভোটের দিন নির্বিচারে লাঠি চালাতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে অতিসক্রিয় হওয়ার কারণে পদ থেকে সরতে হয়নি তাঁকে। বরং ‘সেল্ফ লোডিং রাইফেল’ (এসএলআর)  হাতে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দাবাংগিরি’ দেখানোর অভিযোগে শাস্তির কোপে পড়তে হয়েছে গৌতম দাসকে।   

Advertisement

সম্প্রতি কলকাতার প্রতিটি থানাতে দুটি করে ‘সেল্ফ লোডিং রাইফেল’ বা এসএলআর বরাদ্দ করেছিল লালবাজার। সেই স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন কালীঘাটের  ওসি গৌতম দাস।  তাঁর বিরুদ্ধে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। এরপরই বিতর্ক এড়াতে তাঁকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
কে এই গৌতম দাস? ২০০৮ ব্যাচের কলকাতা পুলিশে এসআই হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন গৌতম। আনন্দপুর থানায় সেকেন্ড অফিসার থাকাকালীন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘ভবানীপুরের বাসিন্দা শাসক দলের এক শীর্ষস্তরের নেতার জামাইয়ের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় এফআইআর দায়ের করে অতীতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপরই তাঁকে থানা থেকে সরিয়ে রিজার্ভ ফোর্সে বদলি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই ইনস্পেক্টর পদে প্রমোশন পান গৌতম। কমিশনের পছন্দের এই ওসি ভোটের দিন কালীঘাটে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ভোটের দিন গৌতমের ওই ভূমিকাকে শাসকশিবির ‘একপেশে’ বলে চিহ্নিত করেছিল। কমিশনের বলে বলীয়ান এই ওসি’র লাঠির আঘাত থেকে সেদিন রেহাই পাননি মহিলারাও। স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি তুলে সোশাল মিডিয়াতে পোস্টের মতো আচরণকে ‘বালখিল্য’  বলে কটাক্ষ করছে কলকাতা পুলিশেরই একাংশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ