প্রীতেশ বসু, কলকাতা: আধ কোটি ভোটারকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে রেখেই ঘোষণা হয়েছিল ভোট-নির্ঘণ্ট। সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি অনিশ্চয়তার প্রশ্ন—অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা কতজন ভোটার এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএমের সামনে দাঁড়াতে পারবেন? আজ প্রকাশ হচ্ছে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। এবং এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কার মেঘ আরও ঘন হচ্ছে প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনক্রমে ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভোটদানের ব্যবস্থা করে কমিশন। কিন্তু এবার কি তাঁরা আদৌ বাড়িতে বসে ভোট দিতে পারবেন?
কেন এই আশঙ্কা? এবারের ভোটেও যথারীতি ৮৫ বছরের বেশি বয়সি এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার সুবিধা চালু রেখেছে কমিশন। তবে এভাবে ভোট দিতে গেলে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি (দফাভিত্তিক গেজেট নোটিফিকেশন) জারি হওয়ার পাঁচদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে বিএলওরা বাড়িতে এসে ফর্ম ১২ডি পূরণ করিয়ে নিয়ে যাবেন। দেশের সর্বত্র এই নিয়ম। কিন্তু ভোটমুখী অন্যান্য রাজ্যে ‘বিচারাধীন’ ভোটার, অতিরিক্ত তালিকা ইত্যাদি ইস্যু নেই। একমাত্র বাংলার ক্ষেত্রে এসব জটিলতা থাকলেও নিয়ম থাকছে একই। এর অর্থ, রাজ্যে প্রথম দফার (২৩ এপ্রিল) ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের এমন ভোটারদের আবেদন করতে হবে ৩ এপ্রিলের মধ্যে। কারণ, এই দফার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ৩০ মার্চ। দ্বিতীয় দফার ভোটের (২৯ এপ্রিল) জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ২ এপ্রিল। ফলে এই দফার কেন্দ্রগুলির এমন ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটদানের জন্য আবেদন করতে হবে ৬ এপ্রিলের মধ্যে। অথচ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো, বিচারাধীন তালিকায় থাকা যাঁদের নাম নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু সেই ব্যক্তি যদি ৮৫ ঊর্ধ্ব বা বিশেষভাবে সক্ষম হন, তিনি কিন্তু আর ‘ভোট ফ্রম হোমে’র সুবিধা পাবেন না। কমিশনের নিয়মের গেরোতেই তা আটকে যাবে। তাঁদের কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়েই ভোট দিতে হবে।
নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আশঙ্কা তো একটা থাকছেই। তাছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে ‘মার্কড ভোটার লিস্ট’ তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেবে। নির্বাচনের কাজ এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নাগরিকরাও নির্ধারিত ভোটের দিনের আগেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। মূল ভোটার রোলে তাঁদের নামের পাশে ‘পি বি’ (পোস্টাল ব্যালট) বা ‘ই ডি’ (ইলেকশন ডিউটি) লিখে তৈরি করা হয় ‘মার্কড ভোটার লিস্ট’। এটি দেখে নির্বাচনের দিন সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটকর্মীরা বুঝতে পারেন, কোন কোন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা পেয়েছেন। সেই তালিকার প্রতি পাতায় স্বাক্ষর করতে হয় অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারকে। ইভিএমে ভোট দিলেও প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররাও পোস্টাল ব্যালট ক্যাটিগরিতেই পড়েন। তাই ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির দিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল।