Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬

কমিশন ঘেরাও, তোলপাড় দিল্লি, এসআইআর নিয়ে ধুন্ধুমার, অসুস্থ মহুয়া, মিতালি

‘বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব!’ ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কমিশন ঘেরাও, তোলপাড় দিল্লি, এসআইআর নিয়ে ধুন্ধুমার, অসুস্থ মহুয়া, মিতালি
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব!’ ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চ্যালেঞ্জে এবার শামিল হল গোটা ‘ইন্ডিয়া’! ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতে এককাট্টা বিরোধী মহাজোট সোমবার দিল্লিতে ঘেরাও করল কমিশনের সদর দপ্তর। বিক্ষোভে অংশ নিল আম আদমি পার্টিও। লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে শ’তিনেক সাংসদকে আটকাতে রাস্তাজুড়ে ছিল ব্যারিকেড। সঙ্গে অসংখ্য পুলিসকর্মী। তার জেরে দুপুরভর ধুন্ধুমার কাণ্ড! তোলপাড় গোটা রাজধানী। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তির জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূলের দুই মহিলা সাংসদ মিতালি বাগ এবং মহুয়া মৈত্র। মিতালির চশমা ভেঙেছে। পায়ে চোট লেগেছে মমতা ঠাকুরেরও।

Advertisement

সংসদের মকর দ্বার থেকে শুরু হয়েছিল বিরোধী সাংসদদের মিছিল। সংসদ মার্গ ধরে সামান্য এগতেই ট্রান্সপোর্ট ভবনের সামনে তাঁদের আটকে দেওয়া হল। গন্তব্য ছিল আর মাত্র কিছুটা দূরে, অশোক রোডে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদন। কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল আগেই, মাত্র ৩০ জন আসতে পারেন। কিন্তু মোদি-বিরোধীদের জবাব, যাবেন কমপক্ষে ৩০০ জন। তাই পথ আটকাল পুলিস। রাস্তাতেই বসে পড়লেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সঙ্গে তৃণমূলের সায়নী ঘোষ, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, পিয়া সরোজের মতো মহিলা সাংসদরা। উঠল স্লোগান, ‘ভোট চোর গদি ছোড়’, ‘মোদি যব যব ডরতা হ্যায়, পুলিস কো আগে করতা হ্যায়।’ প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল বাংলা ভাষাতেও—‘ভোট চুরি বন্ধ করো।’ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কাছে গিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন পরামর্শ দিলেন, ‘ধর্না চালিয়ে যাব রাত পর্যন্ত। দেখি শাহের দিল্লি পুলিস কী করে!’
ততক্ষণে লোহার গার্ডরেল-ব্যারিকেডের উপরে লাফিয়ে উঠে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সুস্মিতা দেব, মিতালি বাগ, সাগরিকা ঘোষ, সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। দিল্লি পুলিস চেষ্টা করেও তাঁদের আটকাতে পারল না। তবে আর এগতে দেওয়া হয়নি বিরোধী সাংসদদের। পথ রুখে দাঁড়াল শয়ে শয়ে ‘শাহ’র পুলিস! তা দেখে রাহুল গান্ধী বললেন, ‘ওরা আমাদের আটক করতে পারে। কিন্তু ভারতের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে পারবে না। রাজনীতির জন্য লড়াই করছি না। মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতেই এই লড়াই।’ 
ঘণ্টাখানেক ব্যারিকেডের সামনে বিক্ষোভ চলার পর, বিরোধী সাংসদের ঠাসাঠাসি করে তোলা হয় পুলিস বাসে। সেখানে মহুয়া মৈত্রের অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়। রাহুল গান্ধী তা দেখেই তৃণমূল সাংসদের মুখে চোখে জলের ছিটে দিলেন। বাকিদের বললেন, ‘থোড়া হাওয়া আনে দো।’ বাসের অন্যদিকে তখন মহিলা এমপিদের নেতৃত্বে প্রিয়াঙ্কা। হাতে লাল-কালো মলাটের সংবিধান। স্লোগান উঠছে, ‘এসআইআর ওয়াপস লো।’ হঠাৎই মিতালি বাগের মাথা ঘুরে গেল। তাঁকে শুশ্রূষার চেষ্টা করলেন প্রিয়াঙ্কা। খবর পেয়ে ছুটে এলেন রাহুল। নিজের গাড়িতে মিতালিকে সংসদেরই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর বিকেলেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক বিরোধী সাংসদদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় পুলিস। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার আগে থানায় বসেই সকলে দাবি তুলেছেন, লোকসভায় ভোট চুরি করেই মোদিকে ফের ক্ষমতার কুর্সিতে বসিয়েছে কমিশন। তাই তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের নামে এফআইআর করতে হবে। প্রকাশ করতে হবে ডিজিটাল ভোটার তালিকা। ভোটমুখী রাজ্যে এসআইআর চলবে না। ভবিষ্যৎ স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে মল্লিকার্জুন খাড়্গের ডাকা নৈশভোজেও মিলিত হন বিরোধীরা। সেখানে তৃণমূলের প্রতিনিধি ছিলেন দোলা সেন এবং প্রতিমা মণ্ডল। আজ, মঙ্গলবার সকালে হবে বিরোধী মহাজোটের বৈঠক। পরিকল্পনা চলছে, দিল্লি পুলিসের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ নোটিস আনার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ