


ভুবনেশ্বর: অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নেওয়া তো দূরের কথা। উল্টে নির্যাতিতাকেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন অধ্যক্ষ! ফকির মোহন কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন নির্যাতিতা তরুণীর বাবা। শনিবার দুপুরে এই কলেজেই যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গায়ে আগুন দেন ছাত্রী। এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বালাসোরের বাসিন্দা বছর বাইশের ওই তরুণী। ভুবনেশ্বর এইমসে চিকিৎসা চলছে তাঁর। সোমবার ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, এখনও লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন মেয়ে। তাঁর দেহের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। বাবা হয়েও তিনি মেয়েকে দেখে চিনতে পারছেন না। পাশাপাশি, ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছেন তরুণীকে বাঁচাতে যাওয়া ছাত্রও। ভুবনেশ্বর এইমসে চিকিৎসা চলছে তাঁরও।
ওড়িশার বালাসোরের ফকির মোহন স্বশাসিত কলেজে বিএড করছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন কলেজের বিভাগীয় প্রধান। প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হচ্ছিল কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকিও। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে গায়ে আগুন দেন তিনি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুকে। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষকেও।
তরুণীর বাবার অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বদলে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের এই পরিণতির জন্য কে দায়ী, তা সবাই জানে। অধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষাদপ্তর, অভ্যন্তরীণ কমিটির সদস্যরা—সবাই আমার মেয়ের উপর নির্যাতন করেছে। আমার মেয়ের বন্ধুরা জানিয়েছে, অধ্যক্ষ তাঁকে বলেছিলেন, বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। আমার মেয়েকে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ তুলে না নিলে কলেজ থেকে বরখাস্ত করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ।’ ওই তরুণীর ভাই জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার আগে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ঘটনার দিন সকাল ১১টার সময় ওই তরুণী অধ্যক্ষের কাছে যান। দুপুর ১টা নাগাদ কলেজের তরফে পরিবারকে জানানো হয়, তরুণী গায়ে আগুন দিয়েছেন।
অন্যদিকে, কলেজ চত্বরে তরুণীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল ওড়িশার রাজনীতি। ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির পদত্যাগেরও দাবি করেছে তাঁরা। রবিবার তরুণীকে দেখতে যান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী । তিনি বলেছেন, ‘ওই তরুণীর চিকিৎসা করতে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। দিল্লি এইমসের পরামর্শও নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজন হলে, দিল্লি এইমস বা দেশের অন্য কোনও শীর্ষ হাসপাতালে ওই তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হবে।’