Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

বঙ্গদেশে দুর্গোৎসব রাজনীতির জনক ক্লাইভ

জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস জমানার গায়ে সেঁটে ছিল সেই বিতাড়িত প্রথারই জেদি গন্ধ। কংগ্রেস নেতাদের গতায়াত ছিল অঞ্চল কংগ্রেসের অফিসগুলি পর্যন্তই।

বঙ্গদেশে দুর্গোৎসব রাজনীতির জনক ক্লাইভ
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হারাধন চৌধুরী: জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস জমানার গায়ে সেঁটে ছিল সেই বিতাড়িত প্রথারই জেদি গন্ধ। কংগ্রেস নেতাদের গতায়াত ছিল অঞ্চল কংগ্রেসের অফিসগুলি পর্যন্তই। তার নিচে আর নামার প্রয়োজন বোধ করেননি তাঁরা। ভেবেছিলেন, অঞ্চল কংগ্রেস অফিসগুলিই তাদের রক্ষাকর্তার ভূমিকা পালন করে যাবে। গদি থেকে কেউ তাদের হটাতে পারবে না। নেতৃত্বের আরও একটি অহংকার ছিল যে, কংগ্রেসই ভারতের স্বাধীনতার ভগীরথ। স্বাধীনতা সংগ্রামের সাফল্য এবং জাতীয়তাবাদের আবেগ তখনও বহমান পুরোমাত্রায়। এহেন সময়ে রাইটার্স থেকে কংগ্রেসকে উৎখাত করার খোয়াব দেখত কমিউনিস্ট, মার্কসিস্ট, সোশ্যালিস্টসহ একটি বৃহৎ-বাম-বৃত্ত। কিন্তু চাইলেই তো আর মেলে না। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ (জনপ্রিয় পরিভাষাটি তখনও চালু হয়নি অবশ্য) কংগ্রেসকে সরাতে হলে তাদের রাজনীতির ফাঁকফোকর নিখুঁতভাবে খুঁজে নিয়েই মোক্ষম হানা দেওয়াটা জরুরি। কংগ্রেসের ছিদ্রান্বেষণে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বামেরা শুধু উত্তীর্ণ নয়, প্রথম শ্রেণিতে প্রথমও হয়েছিল। তারা কেল্লা ফতে করেছিল ১৯৭৭-এ। ২১ জুন জনগণের শোভাযাত্রায় ভেসে ভেসে মহাকরণের অলিন্দে পৌঁছে গিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। 

Advertisement

সেই শুরু। কিন্তু এই জনগণেরই স্বপ্নভঙ্গ হতে খুব দেরি হয়নি। স্বঘোষিত ‘শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পার্টি’ এক দশকেই ‘গণশত্রু’ আখ্যা পেয়েছিল। কিন্তু তাদের হটাতে পারছিল না কেউই। জ্যোতি বসুর সরকারকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার হুংকার দিয়েছিলেন গনিখান চৌধুরী। ব্যর্থতার ক্লান্তিই সার, মালদহের বরকত সাহেব নিজেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে নেন একদিন নিশ্চুপে। হতাশ বঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করতে রাজীব গান্ধীর স্লোগান ছিল, ‘এই হতাশা ভাঙতে চাই, নতুন বাংলা গড়তে চাই’। কিন্তু কোথায় কী! যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার বুঝে গিয়েছিলেন, রাইটার্সের ‘লাল রং’ পাল্টাতে ‘সিপিএমের বি-টিম’ কখনওই আন্তরিক হবে না। তাই নতুন পার্টি তৈরিসহ লাগাতার গণআন্দোলন করেছিলেন মমতা। কৌশল আমূল বদলে ফেলে, ক্ষমতার সেই সুউচ্চ আসন থেকেই সিপিএমকে টেনে নামিয়েছিলেন তিনি ২০১১ সালে। তারপর থেকে শুধুই এগনোর পালা অগ্নিকন্যা এবং তাঁর পার্টির।
সিপিএম-কংগ্রেস জোট আর মোদি-শাহের পার্টির নাকের ডগায় এই ‘চমৎকারী’ সম্ভব হচ্ছে কীভাবে? মমতা নিশ্চয় লক্ষ করেছিলেন, সিপিএমের ক্ষমতার উৎস যত না জনগণ, তার চেয়ে বেশি ছিল পাড়ায়-মহল্লায় ক্লাব-সংগঠনগুলির ধারাবাহিক মদত। সিন্ডিকেটরাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্টির মজবুত তহবিল গঠন থেকে ভোট জালিয়াতিকে সূক্ষ্ম শিল্পের স্তরে উন্নীতকরণ—সবটারই কৃতিত্ব হার্মাদ বাহিনীর। কিন্তু এত করেও আলিমুদ্দিনের কর্তারা ১৩ মে, ২০১১-য় ডাহা ফেল করলেন কেন? একটা মারাত্মক ফাঁক রয়ে গিয়েছিল লালপার্টির রাজনৈতিক কৌশলে। আরএসএস-বিজেপি থেকে স্পষ্ট দূরত্ব রচনা করার অভিপ্রায়ে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি তারা। বিশেষভাবে ‘অচ্ছুত’ করে রেখেছিল সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী হিন্দুদের ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব অনুষ্ঠানগুলিকে। এ ছিল তাদের ঘোষিত অবস্থান, এমনকী প্রকাশ্যে হিন্দুধর্মাচরণের কারণে সুভাষ চক্রবর্তীর মতো প্রকৃত জনপ্রিয় জননেতাকে ভর্ৎসনাও করেছিল তারা। আর এখানেই এক সুন্দর অনুকরণীয় ব্যালান্সের খেলায় বিরাট জয় হাসিল করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার এবং বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে (দুর্গাপুজো) তাঁর পার্টি থেকে প্রশাসন এখন একাকার! বঙ্গে টানা ৩৪ বছরের বাম শাসন চীনের প্রাচীরের মতোই যুগপৎ লঙ্ঘনের অতীত এবং দুর্ভেদ্য হলে তাতে ছিদ্রটি ছিল—বাঙালির এত বড়ো উৎসবকে উপেক্ষা করার দুঃসাহস অথবা বোকামি। মমতা এই জায়গাটিকেই ধরেছেন বুদ্ধিমত্তা আর আন্তরিকতার সঙ্গে—অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলির প্রতি সমান সমর্থন শ্রদ্ধা ভালোবাসা রেখে।
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশির যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি ক্লাইভের কাছে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হন। উপমহাদেশ ব্রিটিশের খপ্পরে নেওয়ার ওটাই ছিল মাহেন্দ্রক্ষণ। দূরদর্শী ক্লাইভ তাই সিরাজের পতনের ঘটনাটিকে বাংলাজুড়ে ‘সেলিব্রেট’ করার পরিকল্পনা নেন। ২৩ জুন সিরাজের পতনের দিন থেকে দুর্গাপুজোর বাকি ছিল তিন-চার মাস। এখনকার মতো এত জাঁকজমক না-হলেও হিন্দু-বাঙালির প্রধান উৎসব তখনও দুর্গাপুজো। তাই ক্লাইভ ঠিক করলেন দুর্গাপুজোকে ‘দুর্গোৎসবে’ রূপ দেওয়ার জন্য কোম্পানিই হবে ‘স্পনসর’। ক্লাইভের প্রিয়পাত্র শোভাবাজারের মহারাজা নবকৃষ্ণ দেব তাঁর ডাকে প্রথম সাড়া দিলেও ঠিক ১৭৫৭-তেই পুজো করেছিলেন কি না, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে নবকৃষ্ণই প্রথম তাঁর বাড়ির দুর্গোৎসবে সাহেবসুবোদের নেমন্তন্ন করেন। আয়োজন সম্পর্কে সেকালের অনেকের তির্যক মন্তব্য ছিল, পলাশির যুদ্ধের স্মৃতি-উৎসবই পালন করছেন মহারাজ। সে-সময়কার একাধিক বিবরণ থেকে জানা যায়, বাইজিনাচ ও এলাহি সুরাপানের সেই আসর ‘ধন্য’ করেছিলেন স্বয়ং ক্লাইভ। শোভাবাজার রাজবাড়িতে বিরাট নাটমন্দির ছিল। আমপাতা আর ফুল দিয়ে সাজানো হতো। বিরাট বিরাট ধূপের আধার ছড়াত। সন্ধ্যার শুরুতেই আসর জমজমাট। বিশিষ্টজনদের নেমন্তন্ন করা হতো চিঠি দিয়ে। নিমন্ত্রণ পেতেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম, ইহুদি ও আর্মেনিয়ানরাও। নিমন্ত্রণরক্ষায় কুণ্ঠা থাকত না কারও। চাফুকারের গাড়ি চেপে আসতেন কোম্পানির কর্তারা। তখন মৃদঙ্গে বোল উঠত। মায়াজাল ছড়াত সারেঙ্গি। বেজে উঠত নূপুর। পা ফেলে ফেলে হাজির হতেন রাজপুরুষদের কাঙ্ক্ষিত রূপসী বেগম জান। নবকৃষ্ণ দেবের পুজোকে কলকাতা শহরের প্রথম দুর্গোৎসবের স্বীকৃতি নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে। তাঁরা বলেন, নবকৃষ্ণের আগেই কুমোরটুলি অঞ্চলের জমিদার গোবিন্দরাম মিত্র তাঁর বাড়িতে মহাধুমধামসহকারে দুর্গোৎসব করেন। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের বাড়িতেও দুর্গাপুজো হতে দেখা গিয়েছে। তবে ঐতিহাসিক সত্য হল, দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নাচ, গান, বিলাস-বৈভরের সূচনা নদীয়ার কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে। পরে নবকৃষ্ণ তা অনুসরণ করেন। 
সূচনা-বিতর্ক সরিয়ে রেখেও বলা যায়, নবকৃষ্ণের বাটিতে পুজোর জাঁকজমক সেকালের সমস্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিরই চোখ টাটাত। সেই কারণেই প্রাণকৃষ্ণ সিংহ, কেষ্টচন্দ্র মিত্র, রামহরি ঠাকুর, বারাণসী ঘোষ, দর্পনারায়ণ ঠাকুর, সুখময় রায়, মদনমোহন দত্ত, বৈষ্ণবচরণ শেঠ, রূপলাল মল্লিক, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, রামদুলাল দে সরকার, প্রাণকৃষ্ণ হালদার, মতিলাল শীল প্রমুখ দুর্গাপুজোর জাঁকজমকের প্রতিযোগিতায় নামেন। তাতে একেক পরিবারের একেক দিকে নামডাক হয়। প্রবাদে পরিণত হয়, ‘‘মা এসে গয়না পরেন জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ-বাড়িতে। ভোজন করেন অভয়চরণ মিত্র-বাড়িতে। আর রাতে নাচগান দেখেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে।” দাঁ-মশাই নাকি দেবীর জন্য প্যারিস থেকে হিরে-চুনি-পান্নার গয়না গড়িয়ে এনেছিলেন। প্রথমনাথ মল্লিকের ‘কলিকাতার আদিকাণ্ড’ বইতে আছে, পোস্তার নকু ধর এবং বড়বাজারের নয়ানচাঁদ মল্লিকের বাড়িতে ক্লাইভ সপার্ষদ আনন্দ-উৎসবে যেতেন। শেষদিকে নবকৃষ্ণের ছেলে গোপীমোহন এবং সুখময় রায়ের ছেলে রামচন্দ্রের প্রতিযোগিতা চলত। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে গোপীমোহনের পুজোয় সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্ক এবং ব্রিটিশ সেনাপতি লর্ড ক্যাম্বারমিয়ার। আর রামচন্দ্রের পুজোর ধুমধামের সঙ্গে আরব্য উপন্যাসের অবিশ্বাস্য কাহিনির তুলনা হতো। ওই বছর কলকাতায় আরও চার-পাঁচটি ধনাঢ্য পরিবারে মহাসমারোহ হয়েছিল। শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গোৎসবের ধুমধাম দীনবন্ধু মিত্রর সুরধুনী কাব্যেও জায়গা করে নিয়েছে, ‘‘বসেছে সাহেব ধরি চুরট বদনে, / মেয়াম্ ঢাকিছে ওষ্ঠ মোহন ব্যঞ্জনে,/ নাচিছে নর্তকী দুটি কাঁপাইয়ে কর,/ মধুর সারঙ্গ বাজে কল মনোহর।’’ শুধু পৃষ্ঠপোষণাতেই ক্ষান্ত ছিলেন না ইংরেজ রাজপুরুষরা, কোম্পানির অডিটর জেনারেল জন চিপসের মতো ব্যক্তি বৈষয়িক উন্নতির আশায় সুরুলে কোম্পানির কুঠিতে দুর্গাপুজোও করেন, যা কোম্পানির পুজো নামে খ্যাত হয়। সেকালে ‘বারোইয়ারি’ পুজোর জাঁকজমক থেকে প্যালানাথবাবু, পচ্চুবাবুর মতো নিকম্মা, সৌখিন ও মজাদার কিছু চরিত্রের সৃষ্টি হয়।
দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে পুজো আয়োজনের ধরন। তবে ক্ষমতার রাজনীতি পুজোর সঙ্গ ত্যাগ করেনি। বরং তাকে আঁকড়ে ধরেছে আষ্টেপৃষ্ঠে। কয়েক দশক আগে শহর কলকাতার দু-চারটি বারোয়ারি দুর্গা কিংবা কালী পুজোর সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের নাম জড়িয়ে ছিল। বামেরা রাইটার্স ছাড়া হতেই সংখ্যাটি বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতাসহ সারা বাংলার সর্বজনীন দুর্গাপুজোগুলিকে সংগঠিত করে ফেললেন। সেগুলি সংহতও হল সরকারি অনুদান লাভ এবং নিয়মমাফিক সেই অর্থের সদ্ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে সরকারি অনুদানের পরিমাণ এবং অনুগৃহীত ক্লাব-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবছর ৪২ হাজারের বেশি ক্লাব-প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে পাচ্ছে। যথারীতি মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গা কার্নিভ্যাল। পাঁচবছর আগেই, মমতার উদ্যোগে সিলমোহর দিয়েছে ইউনেস্কো—বাংলার দুর্গোৎসবকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করেছে তারা। এরপর বাংলায় দুর্গা অঙ্গনও গড়বেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি ঠিকই ধরেছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার ডিভিডেন্ড সরাসরি ভোটযন্ত্রে পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় বিধানসভা ভোটের বাকি আর কয়েকমাস মাত্র। হিন্দুত্বের রাজনীতিই যাদের মূলধন, সেই বিজেপির পক্ষে এমন সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকা চলে কি? মমতার পুজো রাজনীতির বিরোধিতা যে নিজের পায়ে কুড়ুল মারারই সমান, তাও টের পাচ্ছে তারা। অতএব এবার পুজোতেই থাবা বসাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। কিছুদিন আগেই, সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং—রামনাম ছেড়ে তিনি দুর্গা-কালী মাতার নামে জয়ধ্বনি তুলেছেন। মমতার উদ্যোগের সঙ্গে পাল্লা দিতে দুর্গাপুজো আয়োজকদের বিজ্ঞাপন কিংবা সরাসরি টাকা পাইয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। এই কৌশলের শুরু ২০১৯-এ। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, অনেক ক্লাব সংগঠন বিজেপির টাকা নিতে চাইলেও পরে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের চাপে পড়ে তারা অবস্থান বদল করে। তাই এবার ক্লাবগুলিকে গোপনে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদির পার্টি। পার্টিকে বাঙালি সাজাতে সল্টলেকের ইজেডসিসিতে বড় আকারে দুর্গাপুজোও করবেন শমীক ভট্টাচার্যরা। উদ্বোধন করতে পারেন অমিত শাহ। এই কসরতের কোন দাম ভোটযন্ত্রে বিজেপির জন্য অপেক্ষা করে থাকবে তা একমাত্র জনগণেশই জানেন। তবে পুজো-রাজনীতি থেকে এখনও দূরত্বরক্ষার সচেতন প্রয়াস সিপিএমের জন্য কানাগলিই বরাদ্দ রাখছে। একযাত্রায় পৃথক ফললাভ সঙ্গী কংগ্রেসের পক্ষেও বোধহয় সম্ভব হবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ