


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় ও ট্রাফিক মোকাবিলায় ১০০ সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করল জেলা পুলিস। দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে এই নিয়োগ হবে। ওই দুই থানা থেকে আবেদনপত্র তোলা ও জমার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৯মে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। ন্যূনতম ২০ বছর বয়স হলে আবেদন করা যাবে। সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ রাখা হয়েছে। তবে, স্পোর্টস, এনসিসি, স্কাউট, এনএসএস গাইড কিংবা সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারের কোর্স করা থাকলে প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়াও ড্রাইভিং, টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার চালানোয় দক্ষ প্রার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল মন্দির উদ্বোধনের আগেই রাজ্য সরকার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের জন্য ১০০ সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অর্থদপ্তর এজন্য অনুমতিও দিয়েছে। ওই নির্দেশিকা আসার পরই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ মে পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তাতে প্রার্থীদের যোগ্যতা, বয়সসীমা এবং বাসস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানা থেকে আবেদনপত্র তোলা ও জমা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২ মে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর, মারিশদা, কাঁথি, এগরা, ভূপতিনগর, পটাশপুর ও খেজুরি থেকে ২২৫জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাতটি থানার ওই সিভিক ভলান্টিয়াররা তিনটি শিফ্টে ডিউটি দিচ্ছেন। এছাড়াও দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানা এলাকার সিভিক ভলান্টিয়াররাও সেখানে ডিউটি করছেন। সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়াও পর্যাপ্ত পুলিস অফিসার ও কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন জগন্নাথ মন্দির পুলিস ফাঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২০জন পুলিস অফিসার ও কর্মীকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তবে, নতুন ১০০ সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ হলে ওই সাতটি থানার সিভিক ভলান্টিয়ারদের ধাপে ধাপে নিজেদের থানায় ফেরত পাঠানো হবে।
এদিকে নতুন সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে এনিয়ে অভিযোগ আসছে। জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা রামনগর বিধানসভার বাসিন্দা তমালতরু দাসমহাপাত্র বলেন, রামনগর বিধানসভার মধ্যে মোট চারটি থানা পড়ে। তারমধ্যে রামনগর ও মন্দারমণি কোস্টাল থানার বাসিন্দারা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। আমরা চাই, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক। কারণ নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে ইতিমধ্যে কেউ কেউ টাকা তুলছেন বলে আমরা খবর পাচ্ছি। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হবে।