


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়া থানার সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের হতেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। চিপস চুরির অপবাদ দেওয়ায় আত্মঘাতী ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাসের মা সুমিত্রা দাস রবিবার রাতে সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর, তার স্ত্রী, দাদা ও বাবার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন। এরপরই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে ‘ডিমোবিলাইজড’ করেন পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ওই সিভিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সে আর ডিউটি করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ওই সিভিক ভলান্টিয়ার সহ তার পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৭, ১০৮, ৩(৫) ও ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ হতেই সোমবার থেকে বেপাত্তা ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। যদিও অভিযুক্ত অন্যরা বাড়িতেই রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব নিহত ছাত্রের পরিবার। ওই ছাত্রের মা সুমিত্রাদেবী বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য ওরাই দায়ী। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক।
চুরির অপবাদে মানসকিভাবে বিপর্যস্ত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু গত ১৮ মে আগাছানাশক খেয়ে নেয়। ১৯ তারিখ তাকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ২২ মে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণেন্দু মারা যায়। তার মৃত্যুর ঘটনায় দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর তার দেহ নিয়ে প্রতিবাদী মানুষজন সরাসরি অভিযুক্ত সিভিকের বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ি ভাঙচুর হয়। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বাবা স্থানীয় গোপীমোহনপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারপর থেকেই পুরুষশূন্য গোপীমোহনপুর গ্রাম।
ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হাইজ্যাক করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সচেষ্ট পদ্মপার্টি। রবিবার রাতে বিজেপির মহিলা শাখার পক্ষ থেকে থানায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে নিহত ছাত্রের পরিবার বিজেপি নেতাদের সহায়তায় থানায় গিয়ে এফআইআর করে। সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতি এবং স্থানীয় কেশাপাট পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান নমিতা বেসরা সোরেন নিহত ছাত্রের বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন। আজ, মঙ্গলবার বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়ক ওই ছাত্রের বাড়িতে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। তার আগে বিজেপি নেতারা নিহত ছাত্রের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতি বলেন, আমরা ওই পরিবারের পাশে রয়েছি। মঙ্গলবার আমাদের দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক গোসাইবেড় বাজারে ওই ছাত্রের বাড়িতে আসবেন।