


গুয়াহাটি: আর কয়েকদিন পরেই অসমে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একগুচ্ছ অভিযোগে তোলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। হাত শিবিরের দাবি, হিমন্তের স্ত্রীর কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর, অ্য়ান্টিগা-বারবুডার পাসপোর্ট রয়েছে। নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু নথিও দেখান খেরা। যদিও হিমন্ত এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও ‘ডিজিটালি বিকৃত’। একইসঙ্গে মানহানির মামলা সহ আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ কিছু প্রশ্ন তোলেন। হিমন্তর স্ত্রীর দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা রয়েছে কিনা, তা জানতে চান তিনি। তাঁর এই পোস্টের কড়া জবাব দিয়েছেন হিমন্ত-পন্তী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা। কংগ্রেসের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, এইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই হাস্যকর। আমি বা আমার পরিবারের কারও বিদেশে কোনো পাসপোর্ট, ব্যবসা, সম্পত্তি বা ব্যাংক লেনদেন নেই। রিনিকি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ভুয়ো নথি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। পালটা গৌরবের স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান যোগের অভিযোগ তুলেছেন রিনিকি।
গৌরবকে কটাক্ষ করে রিনিকি বলেন, ‘এবার আপনার পালা। জনসমক্ষে কি জানাতে পারবেন যে আপনার স্ত্রীর পাকিস্তানে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বা কখনো ছিল কি না?’ তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের প্রমাণ দেখানোর জন্যও বিরোধী নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন হিমন্ত-পত্নী।
পালটা চাপ বাড়িয়েছে কংগ্রেসও। তাদের দাবি, আরও কিছু তথ্য রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু সামনে আনা দরকার। তাদের দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, জনস্বার্থের প্রশ্ন। শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে তা খতিয়ে দেখা উচিত। এরইমধ্যে এদিন নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, নির্বাচনি হলফনামায় স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পত্তির বিষয়টি গোপন করেছেন হিমন্ত। এজন্য তাঁর প্রার্থী পদ খারিজের দাবি জানিয়েছে হাত শিবির।