


ওয়াশিংটন: ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেব।’ ইরানকে এমনই হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ১০ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি। দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হল ইরান ও আমেরিকা। কিন্তু এই দশ ঘণ্টায় কী এমন ঘটল? ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিলেও ওয়াকিবহাল মহল অন্য কথাই বলছে। তাদের মতে, ইসলামাবাদ নয়, আড়ালে থেকে যুদ্ধবিরতিতে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে চীন। এমনিতেই ইরানের ঘনিষ্ঠ চীন। একার পক্ষে মধ্যস্থতা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে চলতি মাসের শুরুতে বেজিংয়ের দ্বারস্থ হয় ইসলামাবাদ। তারপরই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি দৌত্যের কাজ শুরু করে চীন। যুদ্ধ থামাতে যে চীনের ভূমিকা রয়েছে, তা প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্পও। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টা আমিও শুনেছি।’
যদিও চীনের তরফে সরকারিভাবে এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে বেজিংয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং লি ইরান, ইজরায়েল, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ২৬ বার ফোনে কথা বলেছেন। চীনের পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত বিশেষ দূতও এতে অংশ নেন। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্প যে জটিলতা তৈরি করেছেন, তাতে চীন সরাসরি কখনই জড়িয়ে পড়তে চায়নি। সেকথা মাথায় রেখেই দৌত্য চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই হস্তক্ষেপের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরের মাসেই বেজিং সফরে যাবেন ট্রাম্প।
প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের কি কোনো ভূমিকাই নেই? মঙ্গলবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি পোস্ট জল্পনায় ইন্ধন দিয়েছে। ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়ার জন্য ওই পোস্টে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন শাহবাজ। পাশাপাশি হরমুজ খুলে দিতে ইরানের কাছেও আরজি জানানো হয়। কিন্তু পোস্টের শুরুতে একটি লাইন সকলেরই নজর কেড়েছে। সেখানে লেখা, ‘এক্স হ্যান্ডলে পাক প্রধানমন্ত্রীর বার্তার খসড়া’। অনেকেরই অনুমান, পোস্টটি আদৌ শাহবাজ নিজে করেননি। আমেরিকাই তাঁকে ওই পোস্ট করতে চাপ দিয়েছিল। সেখানে শাহবাজ কী লিখবেন, তার খসড়াও বানিয়ে দেওয়া হয়। তাড়াহুড়োয় পোস্ট করার ফলে ‘ড্রাফট’ শব্দটি আর মোছা হয়নি। মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক রায়ান গ্রিমের বক্তব্য, ‘পাকিস্তান আমেরিকার পুতুল। তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়।’ নিরপেক্ষ না হওয়ার জন্য ইরানও পাকিস্তানকে সরাসরি কাজে লাগায়নি বলে মনে করছেন গবেষক অ্যাডাম ককরান। পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মিরের বক্তব্য, ‘মধ্যস্থতাকারী নয়, ইসলামাবাদকে সহায়তাকারী বলা যেতে পারে। কারণ, মধ্যস্থতাকারীর সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার বেশি তারা কিছু করেনি।’