


তিরুবনন্তপুরম: ভোটমুখী কেরলেও মাথাচাড়া দিয়েছে ‘সেটিং’ তত্ত্ব। আর সেই সেটিংয়ের মধ্যমণি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে কাদের ‘লেনদেন’ বেশি, সেই নিয়েই বিতর্ক ঘনিয়েছে মালয়ালম-ভূমে। কংগ্রেসের অভিযোগ, পালাক্কাড সহ অন্তত ১০টি আসনে শাসক সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত হয়েছে। সোমবার সেই অভিযোগ খণ্ডন করেছেন কেরলের বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি বলেন, আসলে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া রয়েছে কংগ্রেসেরই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নেমম কেন্দ্রে গেরুয়া প্রার্থীর জয়ের পিছনে ছিল হাতশিবির। এদিন তিরুভাল্লায় সাংবাদিক বৈঠক করে বিজয়নের দাবি, সেবার ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়াতেই বিজেপির বিধানসভায় খাতা খোলার পথ প্রশস্ত হয়।
গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সিপিএম তথা বামপন্থীদের লড়াইয়ের ঐতিহ্যও মনে করিয়ে দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘বামপন্থীরা বিশেষত সিপিএম সবসময় বিজেপি এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না।’ এরপরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর অবস্থান কীভাবে বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের পরে কংগ্রেস কর্মীরা বাজি পুড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। যখনই বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট করা প্রয়োজন, তখন রাহুল গান্ধীর দল তারা নীরব রয়েছে। তাছাড়া এই কেরলেই অতীতে কংগ্রেস, মুসলিম লিগ এবং বিজেপির গোপন আঁতাতের নিদর্শন রয়েছে। মানুষ এই আঁতাত ভালোভাবে নেয়নি।
কেরলে ভোট আগামী ৯ এপ্রিল। নির্বাচনের আগে থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে বাম সরকার। তারপরও রাজ্যের উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের দাবি।