Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তহবিলের টাকা খরচ নিয়ে তরজা, উন্নয়নে আস্থা চন্দ্রনাথ সিংহের

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুণ্যভূমি বোলপুর শহর। শান্তিনিকেতন ও এই শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু দশকের। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে বোলপুর বিধানসভাজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন।

তহবিলের টাকা খরচ নিয়ে তরজা, উন্নয়নে আস্থা চন্দ্রনাথ সিংহের
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকমল দালাল, বোলপুর: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুণ্যভূমি বোলপুর শহর। শান্তিনিকেতন ও এই শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু দশকের। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে বোলপুর বিধানসভাজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের উপর ফের ভরসা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে। তারপরই গত পাঁচ বছরে এই বিধানসভায় কী কী কাজ হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত চন্দ্রনাথবাবুর এলাকা উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৫ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। এখানকার বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এখনও অনেক টাকা উন্নয়নের কাজে ব্যয় না হওয়ায় ও তাঁর বিরুদ্ধে ‌ই঩ডির তদন্ত নিয়ে খোঁচা দিয়েছে বিরোধীরা। যদিও বিধায়কের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটের জন্য হিসেব আটকে থাকে। বাস্তবে প্রায় পুরো টাকাই খরচ হয়েছে। এবার নির্বাচনেও মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবে। আমরা জিতব, বাকি থাকা কাজও করা হবে।

Advertisement

চন্দ্রনাথ সিনহা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার পরিচিত মুখ। তিনি রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি কারা দপ্তরের দায়িত্বও সামলেছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথবাবুর উন্নয়ন তহবিল থেকে এক কোটি ৮২ লক্ষ ৫৮হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনও অব্যবহৃত রয়েছে প্রায় এক কোটি ৪৭লক্ষ ৪১হাজার টাকা। শতাংশের হিসেবে খরচের হার ৫৫.৩৩। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই বিরোধীরা আক্রমণ শানিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথবাবু। তাঁর দাবি, এই তহবিল থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। ইলামবাজার ব্লক ও বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের একাধিক স্কুলে পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ইলামবাজার, দেবীপুর ও মঙ্গলডিহিতে তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ইলামবাজারে কিষাণ মান্ডির কাছে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেকার মেয়েদের জন্য সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। বোলপুর ও ইলামবাজারে কৃষক বাজারের ছাউনি নির্মাণ হয়েছে। খয়েরবুনি ও জয়দেবে শ্মশান তৈরির কাজ হয়েছে। জল প্রকল্পের কাজও অনেকটা এগিয়েছে। ইলামবাজার ব্লক হাসপাতালে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বোলপুর শহরে ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিল্ডিং তৈরির কাজ দ্রুত এগচ্ছে। ইলামবাজারে একটি ইন্টিগ্রেটেড স্কুল তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে বিধায়কের দাবি।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইলামবাজার-গোলটে সেতু নির্মাণ হয়নি। বোলপুর শহর ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের বেশকিছু রাস্তার বেহাল অবস্থা। অনেক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এখনও স্থায়ী ছাউনি তৈরি হয়নি। এতে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে। একইসঙ্গে বোলপুর শহরে যানজট নিয়েও এলাকার মানুষের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। যদিও চন্দ্রনাথবাবুর দাবি, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। 
বিধোরীদের দাবি, জেলার অন্য কয়েকজন বিধায়ক যেখানে ৭০শতাংশের বেশি তহবিল খরচ করেছেন সেখানে মন্ত্রীর টাকা খরচ অনেকটা কম। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিধায়ক তহবিল থেকে তেমন কাজ হয়নি। বহু মানুষের টাকা লুট করেছেন। ইডি-সিবিআইয়ের খাতায় নাম রয়েছে। তাঁকে তদন্তে ডাকাও হয়েছিল। তৃণমূল সরকার দুর্নীতিতে জর্জরিত। আমরা ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের কাজ করব।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, যিনি এত কাজ করেছেন বলে দাবি করছেন তাঁকে মানুষের ভোট দেওয়া উচিত নয়। তৃণমূলের উপর মানুষের ভরসা কমছে। আমরাই বিজেপি ও তৃণমূলের বিকল্প।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ