নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমেদাবাদে দেশের বৃহত্তম বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে। দুর্ঘটনার পর ওই বিমানের ইতিপূর্বের যাত্রীদের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু এর ঢের আগে থেকেই সাধারণ বিমান যাত্রীদের পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ কার্যত লুকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত হয়েছে মোদি সরকার! এমন অভিযোগই উঠতে শুরু করেছে। কারণ সাম্প্রতিক একটি আরটিআইয়ের প্রশ্ন এবং তার জবাবই এই সংক্রান্ত বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছর এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিমান যাত্রীরা কী ধরনের অভিযোগ করেছেন? বিমান সংস্থার নাম সহ উত্তর দিন। সংশ্লিষ্ট আরটিআইয়ে এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট জবাব চাওয়া হলেও স্পষ্টই নিরুত্তর থেকেছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।
পরিবর্তে ওই আরটিআই আবেদনকারীকেই বলা হয়েছে যে, আপনি নিজে ডিজিসিএ’র (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন) ওয়েবসাইট দেখে নিন। স্বাভাবিকভাবেই এহেন জবাবকে বিস্ময়কর বলেই মানছে বিশেষজ্ঞ মহল। আমেদাবাদ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্নও উঠছে যে, কেন এভাবে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য গোপনে মরিয়া মোদি সরকার? সুনির্দিষ্ট জবাবে কি এমন কোনও তথ্য বেরিয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোণঠাসা করে দিতে পারে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে? গত মে মাসে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) যখন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড় উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর চাইছেন, তখন অবশ্য কেউই স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী মাস দেড়েকের মধ্যে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম এবং মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার কথা কল্পনা করেননি।
কিন্তু ডিজিসিএ এহেন আরটিআইয়ের জবাব দিলে তখনই স্পষ্ট হয়ে যেত, বিমান পরিষেবায় সাধারণ যাত্রীদের লাগাতার কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে শুধুমাত্রই অভিযোগ সংক্রান্ত প্রশ্ন নয়। ওই একই আরটিআইয়ে উল্লিখিত সমাজকর্মী জানতে চেয়েছিলেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে কত বিমান দেরিতে চলেছে। বিলম্বের কারণে ‘লস্ট টাইম’ কত? এরও কোনও উত্তর দেয়নি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। বরং আবেদনকারীকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে বলা হয়েছে যে, ডিজিসিএ’র ওয়েবসাইটে গিয়ে অন্তর্দেশীয় (ডোমেস্টিক) এয়ার ট্রাফিক ডেটা নিজেই দেখে নিন!