


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভর্তুকি এবং জনকল্যাণের নানাবিধ প্রকল্পে প্রদেয় আর্থিক সহায়তা বিগত বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি কমে গিয়েছে। সোমবার সমাপ্ত হল ২০২৪-২৫ আর্থিক বছর। সরকারি তথ্য পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভর্তুকি এবং ডাইরেক্ট বেনেফিট ট্র্যান্সফারের বিভিন্ন প্রকল্পে ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ব্যয় হয়েছিল ৬ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেখানে সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে ব্যয় হয়েছে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক সবমিলিয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা কম খরচ করেছে। এই খরচ কমে যাওয়ার অর্থ, বিনামূল্যে রেশন, সার, রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি কিংবা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা অথবা উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনার মতো তাবৎ ফ্ল্যাগশিপ সহায়তা প্রকল্পে অর্থব্যয় কমে গিয়েছে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ১ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি। অর্থাৎ ২২ হাজার কোটি টাকা খরচ কমে গিয়েছে। কেন? সরকারি সুত্রে বলা হচ্ছে, বিগত এক বছরে ২ কোটি ২২ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে রেশনের সুবিধা নেয়নি। আবার একইসঙ্গে লক্ষ লক্ষ জাল ও ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। বিগত ১০ বছরে ৫ কোটি জাল ও ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এই ১০ বছরে বিনামূল্যে রেশনে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো গিয়েছে বলে সরকারের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে ২১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে দেওয়া হয়েছিল ৩৪ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। সারের ভর্তুকি প্রদান ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। এ বছর দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ৫৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ১০০ দিনের কাজে। যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল ৬৬ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ৪ কোটি ১০ লক্ষ রান্নার গ্যাসের জাল, নকল এবং নিষ্ক্রিয় উপভোক্তার নাম বিগত ১০ বছর ধরে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর তাই উজ্জ্বলা সহ রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি প্রকল্পে ৭৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে।
আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্কের লিঙ্ক না হওয়ার সমস্যায় ১০০ দিনের কাজের বহু পেমেন্ট আটকে গিয়েছে। সুতরাং সেই খাতেও টাকা কম খরচ হচ্ছে।