নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এবার থেকে কি হিন্দু সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বোর্ডে মুসলিমদেরও সদস্য হতে দেবেন? স্পষ্ট করে বলুন।’ নতুন ওয়াকফ আইন ইস্যুতে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রথম শুনানিতেই এমনই প্রশ্নের মুখে পড়ল মোদি সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াকফ কাউন্সিল এবং বোর্ডে নন-মুসলিম সদস্য রাখা নিয়ে। এমনকী ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ ইস্যুতেও সওয়াল ওঠে। নতুন আইন বলছে, কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ বলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হচ্ছে মানেই ওয়াকফ, এমনটা সহজে মানা হবে না। যদি না সেটির রেজিস্ট্রেশন করা থাকে। তা নিয়ে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং বিপক্ষে কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভির মতো কৌঁসুলিরা দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চালান। শুনানিতে নয়া আইনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। যদিও দেশের প্রধান বিচারপতির তোপের মুখে পিছু হটে কেন্দ্র। বক্তব্য পেশের জন্য সময় চাওয়া হয়। তার জেরে শেষপর্যন্ত অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার ফের শুনানি হবে।
নতুন ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় ৭৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। বিজেপি শাসিত ছয় রাজ্যও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ। দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি পি ভি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে চলছে শুনানি। সেখানেই শুনানির পর্যবেক্ষণে তুষার মেহতাকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, তিরুপতি মন্দির বোর্ডে কি কোনও অহিন্দু রয়েছেন? তা শুনে খানিক চুপ করে যান সলিসিটর জেনারেল। তারপর বলেন, ওয়াকফ কাউন্সিল বা বোর্ডে নন-মুসলিম সদস্য তো মাত্র দু’জন। বোর্ড বা কাউন্সিল তো স্রেফ আইন সঠিক পালন হচ্ছে কি না দেখবে। ওয়াকফ সম্পত্তির উপর তো কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। অন্যদিকে, নতুন আইন পাশ হওয়ার আগে যদি কোনও সম্পত্তি নথিভুক্ত করা থাকে, তাহলে সেটি ওয়াকফ হিসেবেই গণ্য হবে। কেউ হস্তক্ষেপ করবে না।
কিন্তু আচমকা কেউ যদি কোনও ওয়াকফ সম্পত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে? তাহলে কী হবে? পাল্টা প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। শুনানির পর্যবেক্ষণে বলেন, চতুদর্শ-পঞ্চদশ শতাব্দীর পুরনো নথি দেখানো কি সম্ভব? যেমন ধরুন দিল্লির জামা মসজিদ। এরপরেই ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ ইস্যুতে সরকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় সুপ্রিম কোর্ট। তিনটে বিষয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়ার ব্যাপারেও বিবেচনা করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। সেগুলি হল— এক, আদালত যদি কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ বলে তকমা দেয়, তাহলে সেটি সরকার বাতিল করতে পারবে না। অন্তত যতদিন না সুপ্রিম কোর্টে নতুন ওয়াকফ আইন মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে। দুই, কোনও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ থাকলে জেলাশাসক তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু মামলা চলায় আপাতত তার কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তিন, বোর্ড অথবা কাউন্সিলে সরকারি সদস্য ছাড়া বাকিদের মুসলিমই হতে হবে। শেষপর্যন্ত কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত।
এদিন শুনানির শেষ পর্বে নাম না করে মুর্শিদাবাদ প্রসঙ্গ তোলেন প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা তো মামলা শুনছি।’ একযোগে যা সমর্থন করলেন আইনজীবীরাও। তারই মধ্যে তুষার মেহতার মন্তব্য, এটা আসলে একটা নতুন পন্থা। সংঘর্ষের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দেওয়া।