Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পহেলগাঁও নয়, শুধুমাত্র অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র

সংসদের প্রথমদিনে লোকসভায় এলেন বটে। কিন্তু রইলেন মাত্র ন’মিনিট। প্রয়াত সাংসদদের স্মরণ, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু ও আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে স্পিকারের দুঃখপ্রকাশের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পহেলগাঁও নয়, শুধুমাত্র অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সংসদের প্রথমদিনে লোকসভায় এলেন বটে। কিন্তু রইলেন মাত্র ন’মিনিট। প্রয়াত সাংসদদের স্মরণ, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু ও আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে স্পিকারের দুঃখপ্রকাশের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা দেখে সভা মুলতুবি হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো দু মিনিটেই সভা ছেড়ে পালালেন। পহেলগাঁও নিয়ে আমরা আলোচনা চাই। সেই দাবিতেই বিক্ষোভ হয়েছে লোকসভায়। কিন্তু বিরোধীদের তো বলতেই দেওয়া হচ্ছে না। এটাই এক অদ্ভুত নিয়ম। সরকারের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন। কিন্তু আমি বিরোধী দলনেতা হয়েও বলার সুযোগ পেলাম না।’ বিরোধীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের জেরে এদিন চারবার লোকসভা মুলতুবি হয়ে গেল। কখনও দু মিনিট, কখনও ১৩ মিনিটেই সভা মুলতুবি। এদিন লোকসভায় স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। স্লোগান ওঠে, এসআইআর ওয়াপস লো। 

Advertisement

ইস্যু, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথমদিনেই বিরোধীরা বুঝিয়ে দিল তারা পিছপা হচ্ছে না। সরকারের কথায় নত হবে না তারা। যার জেরে সোমবার অধিবেশন বসতেই লোকসভায় চলল বিরোধীদের বিক্ষোভ। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ। রাজ্যসভাতেও কংগ্রেস দেখাল বিক্ষোভ। সরকার শেষ পর্যন্ত আলোচনায় রাজি হল। তবে তা হবে আগামী সপ্তাহে। প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুলাই বিদেশ থেকে ফিরলে। লোকসভায় আলোচনার জন্য বরাদ্দ হল ১৬ ঘণ্টা সময়। তবে বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করে সরকার জানিয়ে দিল, আলোচনা হবে অপারেশন সিন্দুর নিয়েই, পহেলগাঁও হামলা নিয়ে নয়। ফলে আগামী সপ্তাহেও সংসদের জট কাটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এদিন, সরকারের তরফে প্রস্তাব গেওয়া হয়, আগে আলোচনা হোক নতুন আয়কর বিল নিয়ে। তারপর পরের সপ্তাহে সিন্দুর নিয়ে কথা। কিন্তু রাজি হল না বিরোধীরা। ফলে এদিন সংসদের উভয়কক্ষে তো বটেই, কার্য উপদেষ্টা কমিটির (বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটি)র বৈঠকে বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হবে। অন্য কেউ নন। তাঁর যখন বিদেশ যাওয়াই এত জরুরি ছিল, তাহলে সংসদের অধিবেশন কেন ডাকা হল? তৃণমূলের লোকসভার সচেতক কল্যাণ ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ চত্বরে বলেন, অপারেশন সিন্দুর নয়। আলোচনা করতে হবে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে। সরকার যে ব্যর্থ, সেটা মেনে নিক। কেন এখনও জঙ্গিরা ধরা পড়ল না? সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, পহেলগাঁও নিয়েই আলোচনা করতে হবে। এবং তা সবার আগে। অন্য কোনও বিষয় পরে। কংগ্রেসের লোকসভার মুখ্য সচেতক কে সুরেশ জানান, এসআইআর নিয়েও আলোচনা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দাবার বোড়ে বানিয়ে বিজেপির ষড়যন্ত্র মানব না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ