ভোপাল: ৫ জনকে গাড়ি চাপা দিয়েও এতটুকু অনুশোচনা ছিল না বিজেপি বিধায়কের ছেলের। এবার বিধায়কেরও দাবি, তাঁর ছেলের কোনো দোষ নেই। উলটে শাসালেন পুলিশকেও! মহকুমা পুলিশ অফিসার আয়ুষ জাখরকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘ক্ষমতা থাকলে ওকে আটকে দেখাও।’ এভাবেই ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগ উঠল মধ্যপ্রদেশের পিছোর আসনের বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির বিরুদ্ধে।
গত ১৬ এপ্রিল শিবপুরী জেলার কারেরায় প্রতীমের ছেলে দীনেশের গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয় পাঁচজন। তাতে বিন্দুমাত্র পরোয়া ছিল না দীনেশের। বরং জখমদের ঘাড়েই দোষ চাপান তিনি। রাজ্যের শাসক দলের বিধায়ক-পুত্র দাবি করেন, সাইরেন বাজালেও রাস্তা ছাড়তে চাননি বাইকচালক ও পথচারীরা। তাই বাধ্য হয়ে ধাক্কা দিয়েছেন। জোর গলায় দাবি করেন, তাঁর বিধায়ক পিতা চাইলে খুনের ঘটনাও সামলে নিতে পারবেন। এবার কারেরার এসডিওপি-কে শাসালেন অভিযুক্তর বিধায়ক বাবাও। বললেন, ‘কারেরা কি ওর বাবার?
বিধায়কের দাবি, এটা নিছকই দুর্ঘটনা। বিরোধী কংগ্রেস ঘটনায় রাজনৈতিক রং চলাতে পারে-এই আশঙ্কায় দুর্ঘটনার প্রশাসনিক কর্তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপে বিলম্ব হয়েছিল। তাঁরা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিজে একাধিকবার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। প্রীতমের অভিযোগ, দিল্লি থেকে নির্দেশ এসেছে বলে গাড়িটি থানায় পাঠানো হয়। তৃতীয় দিনে জামিন মেলে। চতুর্থ দিনে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। পরে জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর ছেলেকে পুলিশ আবার ডেকে পাঠায়। সেখানে কারেরা থেকে আর ভোটে লড়তে পারবে না বলে দীনেশকে বলা হয়। এমনকী, তাকে এই এলাকায় যেন দেখা না যায়- এমন হুমকিও পুলিশ তাঁর ছেলেকে দিয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। এই প্রসঙ্গ তুলেই ক্ষোভ উগরে বিধায়ক বলেছেন, ‘কার নির্দেশে পুলিশ এমনটা বলছে?’ তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা না পেলে তিনি এসডিওপি-র বাংলো গোবর দিয়ে ভরিয়ে দেবেন। প্রথমে স্বয়ং বিধায়ক দাবি করেন, আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভোলবদল!