নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে ফের ‘দুয়ারে কেএমসি’র শিবির শুরু হয়েছে। সম্পত্তি করের আওতার বাইরে থাকা জমি-বাড়ির অ্যাসেসমেন্ট থেকে শুরু করে এ সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা সমাধানে সোমবার থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ক্যাম্প শুরু করল কলকাতা পুরসভা। তবে শহরের সর্বত্র এই শিবির হচ্ছে না। শুধুমাত্র ‘সংযুক্ত’ কলকাতা অর্থাৎ যাদবপুর, বেহালা, জোকা ও গার্ডেনরিচ অঞ্চলে এই ক্যাম্প চলবে। পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সপ্তাহে তিন-চারদিন রোজ চার থেকে পাঁচটি শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রীতিমতো ওয়ার্ড ধরে ধরে সম্পত্তি করের আওতার বাইরে থাকা বাড়ি, জমি, কারখানা চিহ্নিত করে তার অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। কোনও সম্পত্তিই যেন ‘আন-অ্যাসেসড’ না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং মিউটেশন করতে হবে। সম্প্রতি, ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই নির্দেশের পরই পুরসভা এক্ষেত্রে তৎপরতা শুরু করে দেয়। সোমবার শহরের ১১৫, ১২০, ১৩৩, ১৪২ ওয়ার্ড সহ একাধিক এলাকায় এই শিবির চলে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বেহালার শকুন্তলা পার্ক থেকে একটি অভিযোগ আসে। সেখানে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট আবাসনের কোনও ফ্ল্যাটই মিউটেশন করানো হয়নি। পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা শুধু জায়গাটি দেখে চলে গিয়েছেন। এমন অভিযোগ শুনেই মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কেউ পুরসভারে টাকা দিতে চাইছেন, আর আমাদের অফিসাররা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। আধিকারিকদের একাংশের উদাসীনতার জন্যই পুরসভার রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া ধাক্কা হচ্ছে। আপনারা এলাকা ভিজিট করুন। ওয়ার্ড ধরে ধরে কোথায় এমন সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলির মূল্যায়ন হয়নি, সেগুলি চিহ্নিত করুন।’ এ বিষয়ে সম্পত্তি কর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কমিশনারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলেন ফিরহাদ। পাশাপাশি, আরও বেশি শিবির করে এসব সম্পত্তি অ্যাসেসমেন্টের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। মেয়রের সংযোজন, ‘শহরের সংযুক্ত অঞ্চলে এমন অনেক সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলি করের আওতাভুক্ত নয়। মিউটেশন হয়নি। এসব সম্পত্তি করের আওতায় আনতে পারলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি হবে।’
নতুন ফ্ল্যাট বা আবাসনের মিউটেশনের ক্ষেত্রে বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। বিল্ডিং বিভাগ থেকে নিয়মিত নথি সংগ্রহ এবং নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে দ্রুত মিউটেশনের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। ফিরহাদের বক্তব্য, অতীতের তুলনায় পুরসভার আয় বেড়েছে। শিবির করে আরও অনেক সম্পত্তি করের আওতায় আনার কাজ চলছে। মিউটেশনও হচ্ছে। এরপরও যেসব ফাঁক থেকে যাচ্ছে, সেগুলি দূর করে গোটা প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে হবে। নিজস্ব চিত্র