Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৩ মার্চ পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সমস্ত মিটিং-মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি হাইকোর্টের

১৩ মার্চ পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সমস্ত মিটিং-মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি হাইকোর্টের
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সমস্তরকম মিটিং, মিছিল ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল হাইকোর্ট। ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের চারপাশের চত্বরে কোনও রাজনৈতিক দল কোনও কর্মসূচি করতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সুলেখা মোড় থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত মিছিলের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার সূত্রেই এই নির্দেশ বিচারপতি ঘোষের। তবে রুট বদলে ওই কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের নবীনা সিনেমা হল থেকে যাদবপুর থানার ১০০ গজ আগে কর্মসূচি থামাতে হবে বলে বিচারপতি তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন। আবার যাদবপুরে মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে নিগ্রহের ঘটনায় তাঁর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে বিচারপতি ঘোষের সঙ্গে এদিনই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য তাঁকে হাত জোড় করেই এজলাস ছাড়তে দেখা গিয়েছে। 

Advertisement

এদিকে, এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুস্থ উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে হাসপাতালে দেখে এলেন জখম ছাত্রের বাবা অমিত রায়। বাইপাস সংলগ্ন হাসপাতালে শুক্রবার তাঁকে দেখতে যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সেক্রেটারি অমিতবাবু। তিনি বলেন, উপাচার্যের আজ জন্মদিন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানালাম। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ইন্দ্রানুজের খোঁজও নিয়েছেন তিনি। তিনি এও জানিয়েছেন, ওর চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ই বহন করবে। এটা যাদবপুরের নিয়ম। এতে আমি আশ্বস্ত। যদিও অমিতবাবুর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য কথা বলা উচিত কর্তৃপক্ষের। উপাচার্য অসুস্থ থাকায় তিনি কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়ে ছাত্ররা দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। এদিন রাজভবনে উপাচার্যদের নিয়ে যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। একটি তদন্তকারী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্যের নমিনি কাজি মাসুম আখতারকেও সেই কমিটিতে রাখা হচ্ছে। এদিন বৈঠকে না গেলেও একটি চিঠি তিনি আচার্য তথা রাজ্যপালের উদ্দেশে পাঠিয়েছেন। উপাচার্যকে সৎ, সজ্জন বলে দাবি করেও গোটা ঘটনায় তাঁর সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করেছেন আচার্য নমিনি। তাঁর বক্তব্য, গাড়ি চাপা পড়লেও এক চুলের জন্য মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচেছেন ইন্দ্রানুজ। তাঁর কিছু হলে পড়ুয়ারা শিক্ষামন্ত্রীকেও অক্ষত অবস্থায় বেরতে দিত না। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মীর অভাব হেতু। ৬০-৭০ জনের মধ্যে মাত্র ১০-১২ জন উপস্থিত ছিলেন। এটা উপাচার্যের ব্যর্থতা। এইভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নিরাপত্তাকেও বিঘ্নিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মাত্র ৩০-৪০ জন অতিবাম ছাত্রের নৈরাজ্যও বিশ্ববিদ্যালয় সামাল দিতে পারছে না!

সম্পর্কিত সংবাদ