Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আখের রস বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালান বি টেকের ছাত্রী সুস্মিতা, নিজের ব্র্যান্ড তৈরির স্বপ্ন

ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডের পাশে ছোট একটা স্টল। সেখানে আখের রস বিক্রি করেন এক তরুণী। এ কাজ করে তিনি নিজের বি টেক পড়াশোনার খরচ জোগাড় করছেন।

আখের রস বিক্রি করে পড়াশোনার  খরচ চালান বি টেকের ছাত্রী সুস্মিতা, নিজের ব্র্যান্ড তৈরির স্বপ্ন
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডের পাশে ছোট একটা স্টল। সেখানে আখের রস বিক্রি করেন এক তরুণী। এ কাজ করে তিনি নিজের বি টেক পড়াশোনার খরচ জোগাড় করছেন। উচ্চশিক্ষা করলেও চাকরি তাঁর লক্ষ্য নয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হেঁটে নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করতে চান। ছাত্রীটির নাম সুস্মিতা বড়াল।

Advertisement

হাওড়ার কোনা তেঁতুলতলার বাসিন্দা সুস্মিতাদেবী। ব্যান্ডেলের একটি বি টেক কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করছেন। তাঁর বাবার ছোট একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে। সুস্মিতা নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বছরখানেক আগে স্টার্ট আপের চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। আহামরি কিছু নয়, স্টেডিয়ামের পাশে ছোট স্টল খোলেন। তিনি বলেন, ‘একটি মেয়ে আখের রস বিক্রি করছে দেখে অনেকেই ঠাট্টা করেছিলেন।’ আবার এটাও ঠিক, অনেকেই বলেছিলেন, ‘এখন তো সবাই মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। সেখানে একটি মেয়ে পড়াশোনা করছে আবার দোকানও করেছে। সবার শেখা উচিত।’
সুস্মিতার স্টলে আধুনিক মেশিনে আখের টুকরো থেকে বের করা হয় রস। মেশিন কিনতে লোনও নিয়েছিলেন তিনি। স্বাস্থ্যরক্ষায় গ্লাভস ও মাস্ক পরেন। আখের সঙ্গে আনারস কিংবা আম মিশিয়ে তৈরি করেন ফিউশন জুস। স্টলের সামনে ব্যানার। তাতে আখের রসের গুণাগুণ সম্পর্কে লেখা। সুস্মিতাদেবী বলেন, ‘আজকাল বড় মলগুলিতেও আখের রস মেলে। এ দিয়ে বিভিন্ন রকম ফিউশন মকটেল তৈরি সম্ভব। সেটিই আমার ভাবনা।’ আখের পাশাপাশি স্টলে মিলছে আমপান্না। গরম পড়ার পর স্টলে ক্রমেই ভিড় বাড়ছে বলে জানালেন।
সুস্মিতা জানান, প্রথম প্রথম দিনে একশো টাকাও বিক্রি হতো না। কিন্তু এখন গরম পড়তেই ভিড় বাড়ছে। এখন রোজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার বিক্রি হয়। মুখ্যমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে স্টার্ট আপ শুরুর জন্য উৎসাহ দেন। সে থেকেই মিলেছে রসদ। নতুন ব্যবসা স্বপ্নপূরণের চাবিকাঠি হবে বলে মনে করেন সুস্মিতা। বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সবসময় বলেন, ছোট ব্যবসা শুরু করেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তাই করেছি। এই ছোট ব্যবসাই আমার পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছে। একটি ব্র্যান্ড তৈরি করার স্বপ্ন দেখি আমি।’ বর্তমানে তাঁর সাফল্য অনেককে উৎসাহ দিচ্ছে। সবাই বলছেন, ‘নিজের পায়ে দাঁড়াতে এমনটাই তো হওয়া উচিত।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ