


নয়াদিল্লি ও নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কেটে গিয়েছে ৯০ ঘণ্টা। ইতিমধ্যে তিনবার ফ্ল্যাগ মিটিং সেরেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এখনও পাক রেঞ্জার্সের হাতে আটক রিষড়ার বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ। আজ, সোমবার পাঠানকোট যাচ্ছেনই পাকিস্তান সেনার হাতে আটক জওয়ানের পরিবার। রবিবার কল্যাণী থেকে বিএসএফ কর্তাদের একটি দল পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। বাড়িতে এসে আটক জওয়ানের স্ত্রী, বাবার সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকরা। সাউ পরিবারের দাবি, বাহিনীর কর্তারা কেউ পূর্ণমের বর্তমান অবস্থার কথা জানাতে পারেননি। তাঁরা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন যে, পূর্ণমকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
পহেলগাঁও ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভুল করে পাক ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন বিএসএফের ১৮২ নম্বর ব্যাটালিয়েনর কনস্টেবল পূর্ণম। জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবে ফিরোজকোট সেক্টরে ভারত-পাক সীমান্তে কৃষিজমিতে টহলদারি দিচ্ছিলেন। কৃষকদের সাহায্যও করছিলেন তিনি। একসময় বিশ্রামের জন্য ছায়ার খোঁজে এদিক ওদিক ঘুরছিলেন। অসাবধানতাবশত ঢুকে পড়েন পাক ভূখণ্ডে। তখনই তাঁকে আটক করে পাক রেঞ্জার্স। সে সময় তাঁর পরনে ছিল ইউনিফর্ম। হাতে রাইফেল।
পূর্ণমের মুক্তির জন্য প্রথম থেকে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন বিএসএফ আধিকারিকরা। তিনদফা ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সঙ্গে ফিল্ড কমান্ডার স্তরে বৈঠকের অনুরোধ করা হয়েছে। শীঘ্রই সেই বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাক রেঞ্জার্স। ভারতের তরফে বৈঠকের চাপ অব্যাহত রাখা হবে। ভারত-পাক সীমান্তে মোতায়েন সব ইউনিটগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিএসএফের শীর্ষকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার করে ফেলেছিলেন পূর্ণম। এর নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
এদিন দুপুরে প্রায় একাধিক বিএসএফ আধিকারিক সহ ১০ জনের একটি দল রিষড়ার সাউ-ভিলাতে আসেন। তাঁরা ফুল, মিষ্টি সঙ্গে এনেছিলেন। দীর্ঘসময় ওই অফিসাররা সাউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। পরে পূর্ণমের বাবা ভোলানাথবাবু বলেন, আমার ছেলে কেমন আছে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও পাইনি। তবে বিএফএফের তরফে জানানো হয়েছে, পূর্ণমকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকমের প্রয়াস চলছে। পূর্ণমের স্ত্রী রজনী বলেন, বাড়িতে বসে থাকতে পারছি না। যেখান থেকে আমার স্বামীকে পাকিস্তান সেনা নিয়ে গিয়েছে, সেই পাঠানকোট সীমান্তে যেতে চাই। সেখানেই স্বামীর জন্য অপেক্ষা করব। সেখানকার বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে দিল্লি যাব। প্রধানমন্ত্রীর পায়ে ধরব। নিজস্ব চিত্র