সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মেমারি থানা এলাকার এক গৃহবধূর ন’বছরের এক ছেলে এবং আট বছরের এক মেয়ে রয়েছে। হঠাৎ করেই তিনি বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন প্রেমিকের হাত ধরে তিনি চম্পট দিয়েছেন। পুলিসের দাবি, এটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়, ১০ থেকে ১২ বছর দাম্পত্য জীবনের পরও অনেক গৃহবধূ ঘর ছাড়ছেন। পরিবারের লোকজন থানায় এসে অভিযোগ করছেন। কিন্তু তেমন কিছুই করা যাচ্ছে না। তাঁরা সকলেই সাবালিকা। তাঁরা কোথায় থাকবেন বা কার সঙ্গে যাবেন সেটা ঠিক করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। কয়েকদিন আগে জামালপুর থানা এলাকাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিনের মধ্যে এরকম ১০-১২জন গৃহবধূ ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বাড়ি ছাড়ার আগেরদিন পর্যন্ত অনেকে স্বাভাবিক আচরণ করছেন। তাঁদের দেখে সন্দেহ হওয়ার জো নেই। বাড়ি থেকে চম্পট দেওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসছে। এক গৃহবধূ বাড়ি থেকে চম্পট দেওয়ার আগে শ্বশুরবাড়ির সমস্ত অলঙ্কার নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে এই প্রবণতা শুধু বধূদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এমনটা নয়, অনেক বিবাহিত পুরুষ একই পথে হাঁটছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষাদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, আমরা নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। স্কুলে গিয়ে কর্মশালা করা হচ্ছে। কন্যাশ্রীর মেয়েরা প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু বিবাহিতদের সচেতন করার কোনও উপায় নেই। নাবালিকারা না বুঝে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু গৃহবধূদের ক্ষেত্রে তেমনটা হওয়া উচিত নয়। জেলার এক আধিকারিক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ডির্ভোসও করছেন না। সামাজিকভাবে বিয়ে না করায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রাক্তন কোনও পদক্ষেপও নিতে পারছেন না। নাবালিকাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ সময় তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে ঘর ছাড়ে। কিন্তু গৃহবধূদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। তাঁরা স্থানীয় কোনও পরিচিতের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে চম্পট দিচ্ছে। এক পুলিস অফিসার বলেন, কেউ কেউ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার তাদের কথা ভাবছেই না। ছেলে বা মেয়েকে ঘরে রেখে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছাড়ছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। সন্তানের থেকেও বহু বধূর কাছে প্রেমিকের ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বয়স সেক্ষেত্রে কোনও বাধা হচ্ছে না।