Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুথ ধরে ঘুঁটি সাজানো শুরু হাবড়ায়, পুরানো কৌশলে ময়দানে ‘সাবধানী’ বালু

২৬-এর বিধানসভা ভোটে হাবড়ায় নিঃশব্দ প্রস্তুতিতে নামল তৃণমূল! প্রচারের ঝলক বা বড়ো সভা নয়। একেবারে বুথ ধরে ধরে সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার পথেই হাঁটছে দল।

বুথ ধরে ঘুঁটি সাজানো শুরু হাবড়ায়, পুরানো কৌশলে ময়দানে ‘সাবধানী’ বালু
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২৬-এর বিধানসভা ভোটে হাবড়ায় নিঃশব্দ প্রস্তুতিতে নামল তৃণমূল! প্রচারের ঝলক বা বড়ো সভা নয়। একেবারে বুথ ধরে ধরে সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার পথেই হাঁটছে দল। বুধবার শহরের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে প্রচারের রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। হাবড়া শহর বিধানসভা কমিটির সেই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে গ্রামাঞ্চলের কুমড়া-কাশিপুর, রাউতারা, মছলন্দপুর ২ ও পৃথিবা নিয়ে হবে বৈঠক। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকেরও। লক্ষ্য হল,  প্রতিটি স্তরে সংগঠনকে চাঙ্গা করা। তৃণমূলের অন্দরে এখন বলাবলি হচ্ছে, এবার ভোট ময়দানে আগাগোড়া ‘সাবধানী বালু’-কে দেখছেন তাঁরা। আত্মতুষ্টি বা অযথা আতঙ্ক নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় অঙ্ক কষে হাবড়ায় জয় হাসিল করতে চাইছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথকে আলাদা ইউনিট হিসাবে ধরে তার শক্তি-দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কর্মীরা সক্রিয়, কোথায় নিষ্ক্রিয়, কোথায় সমন্বয়ের অভাব—সবকিছুই নোট করা হচ্ছে। সমীক্ষার ভিত্তিতে শুরু হচ্ছে পুনর্গঠনের কাজ। যেসব বুথে কমিটি ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে, সেখানে নতুন করে কমিটি সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরুণ কর্মীদের সামনে আনা, অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাদের সমন্বয় বৃদ্ধি—দু’দিকেই জোর দিচ্ছে দল। এই বিধানসভার মধ্যে হাবড়া পুরসভা ছাড়া আছে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত—কুমড়া-কাশিপুর, রাউতারা, মছলন্দপুর ২ ও পৃথিবা। প্রতিটির জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে দলের তরফে। কোথাও সংগঠন শক্ত, কোথাও ফাঁক রয়েছে—সেই অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ ‘মাইক্রো প্ল্যানিং’-এই ভরসা রাখছে তৃণমূল। 

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে তৃণমূল এগিয়েছিল। কিন্তু ২৪-এর লোকসভা ভোটে ‘বালুহীন’ হাবড়ায় ২৪ ওয়ার্ডেই তারা পিছিয়ে যায়। ফলে মূলত শহরাঞ্চল নিয়েই চিন্তায় রয়েছে হাবড়ার শাসক শিবির। তাই মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো, ছোটো ছোটো বৈঠক, পাড়াভিত্তিক আলোচনা—এসবের মাধ্যমেই ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে চাইছে তৃণমূল। দলের নেতা নীলিমেষ দাস ও মনোজ রায় বলেন, ‘বালুদা এবারও জিতবেন, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিন্ত। বিধানসভা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’ পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ‘বালুদাকে জেতাতে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আমরা ২০ জন নেতা শহর থেকে লিড দেওয়ার সংকল্প নিলাম।’ বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘ওঁরা যতই চেষ্টা করুক, হাবড়ায় এবার মানুষ পদ্মফুল ফোটাবেই। নিত্যনতুন কৌশল নিয়ে কিছু লাভ হবে না। ভোটার ওদের সঙ্গে নেই।’ এই আবহে হাবড়ায় তৃণমূলের প্রস্তুতি অনেকটাই নীরব ও সংগঠিত। বুথ ধরে ধরে ঘুঁটি সাজিয়ে ভোটযুদ্ধে মাত করতে চায় জোড়াফুল শিবির। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ