Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মোদির ভারতে বাক স্বাধীনতায় কোপ, উদ্বেগ বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদির

বাক স্বাধীনতার পক্ষে মুক্তকণ্ঠে সওয়াল করে থাকেন তিনি। এব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদি। কট্টরপন্থীদের হামলায় বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন তিনি।

মোদির ভারতে বাক স্বাধীনতায় কোপ, উদ্বেগ বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদির
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: বাক স্বাধীনতার পক্ষে মুক্তকণ্ঠে সওয়াল করে থাকেন তিনি। এব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদি। কট্টরপন্থীদের হামলায় বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন তিনি। থাকতে হয়েছিল আত্মগোপনে। মার্কিন মুলুকে হামলায় হারিয়েছেন একটি চোখ। সেই রুশদি মনে করেন, মোদির ভারতে বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসর ক্রমশ কমছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে রুশদির ছোট গল্প সংকলন ‘দি ইলেভেন আওয়ার’। সেই উপলক্ষ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্লুমবার্গে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ৭৮ বছরের লেখক। সেখানেই ভারতে বাক স্বাধীনতায় বেড়ি পরানোর প্রবণতা নিয়ে তাঁর হতাশা ধরা পড়েছে।

Advertisement

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মিশেল হুসাইন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ‘মোদির ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের বাড়বাড়ন্ত এবং বাক স্বাধীনতার উপর লাগাম নিয়ে উদ্বিগ্ন রুশদি। কয়েক দশক আগেই তিনি বিষয়টির আঁচ পেয়েছিলেন।’ ২০২৫ সালে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকের তালিকায় ১৫১তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। তার আগের বছর ছিল ১৫৯ নম্বরে। যদিও এই সূচককে গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকার। বিষয়টিকে পশ্চিমী দেশগুলির পক্ষপাতিত্ব বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। 
এই অবস্থায় ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর লেখক রুশদি জানিয়েছেন, ‘ভারতে আমার অনেক বন্ধু রয়েছেন। সাংবাদিক, লেখক, বদ্ধিজীবী, অধ্যাপকের মতো পেশায় নিযুক্তরা বাক স্বাধীনতার উপর আক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ ভারতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রুশদি বলেছেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, নতুন করে দেশের ইতিহাস লেখার চেষ্টা শুরু হয়েছে। তারা বলতে চায় হিন্দুরা ভালো, মুসলিমরা খারাপ। তারা বলতে চায় ভারত আসলে হিন্দু সভ্যতা। মুসলিমরা আসার পরে তা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। একেই লেখক ভি এস নইপল এক সময় ক্ষতবিক্ষত সভ্যতা বলেছিলেন। ওই ধারণাটিকে প্রতিষ্ঠা করতে বিপুল শক্তি খরচ করা হচ্ছে।’ 
সাক্ষাৎকার সামনে আসতেই গেরুয়া শিবিরের তোপের মুখে পড়েছেন রুশদি। সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ১৯৮৮ সালে রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস সরকার তাঁর ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। গত বছর মোদির বিজেপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মনিকা ভার্মা নামে একজন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘কট্টরপন্থী মুসলিমের আক্রমণে তিনি একটি চোখ হারিয়েছেন। আর তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের ভয় পাচ্ছেন। কারণ তিনি জানেন আর একটি চোখ বাঁচিয়ে রাখতে হলে কাকে আক্রমণ করা উচিত।’ -ফাইল চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ