Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘এক গুলিতে সবাইকে খতম করতে পারি’, খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টির মধ্যেই ইরানি নেতাদের হুমকি ট্রাম্পের

খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিতে ট্রাম্প আমেরিকা খতমের হুমকি দিলেন। ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা, বিস্তারিত পড়ুন।

‘এক গুলিতে সবাইকে খতম করতে পারি’, খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টির মধ্যেই ইরানি নেতাদের হুমকি ট্রাম্পের
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন ও তেহরান: দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হয়েছে ইরানের নিহত প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে এক গুলিতেই আমেরিকা খতম করতে পারে। এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এমন কোনো চরম পদক্ষেপের কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে, তাতে বিতর্ক থামেনি। পালটা আমেরিকার সভ্যতা, সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। 

Advertisement

শুক্রবারই ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল খামেনেইয়ের দেহ। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে শেষকৃত্যের সরকারি অনুষ্ঠান। ইরানের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় পৌঁছেছেন।  যোগ দিয়েছেন ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও। 
বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মতো ইরানের শীর্ষ নেতারাও খামেনেইয়ের কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর সেই বিষয়টি নিয়েই মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘পুরো অনুষ্ঠানের উপর নজর রাখছি। ওরা এক জায়গায় জড়ো হয়েছে। মাত্র একটা গুলি, আর তাতে সকলকে খতম করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না। তাহলে আলোচনা চালানোর জন্য কাউকে পাব না।’ সূত্রের খবর, সুইত্জারল্যান্ডের পর এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে পারে। শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে হাজারে হাজারে মানুষ যেভাবে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, তা নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের  কটাক্ষ, ‘এমন দৃশ্য দেখে আমি অবাক। কারণ আমি মনে করতাম, ইরানের বেশিরভাগ নাগরিকই প্রয়াত নেতাকে ঘৃণা করতেন। সম্ভবত ওটা মেকি কান্না!’ এর জবাবে আর্মেনিয়ার ইরানি দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কড়া বার্তা- ‘মানুষকে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু তাঁর আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতোল্লা খামেনেইকে খুন করেছেন। কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটা পারফিউমের বোতল ভেঙে ফেলেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।’ সেইসঙ্গেই  পোস্টে খোঁচা দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আপনারা এসব বুঝবেন না। কারণ আপনাদের না আছে কোনো সভ্যতা, না কোনো ইতিহাস, না কোনো সম্মান।’ গ্র্যান্ড মোসাল্লাতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেন হাজার হাজার মানুষ। এদিকে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, রবিবার খামেনেইয়ের তিন ছেলে মোস্তাফা, মেসাম ও মাসুদ শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও মোজতবাকে সেখানে দেখা যায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একবারের জন্য প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলায় তিনিও গুরুতর জখম হয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি। তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ