নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দলবদলু নেতাদের সুপারিশে বিশেষ মান্যতা নয়। বরং বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে দলের আদিপন্থী নেতাদের পরামর্শই। রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে রাহুল সিনহার নাম ঘোষণার পরই দলের আদি কর্মীদের নিয়ে আরও বেশি সচেতন হয়ে পড়েছে বিজেপি। জানা যাচ্ছে যে, রাজ্য বিধানসভা ভোটের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকাতেও প্রাধান্য পেতে চলেছেন দলের আদি নেতাকর্মীরাও। এক্ষেত্রে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আসনে আদিপন্থী নেতাদেরই টিকিট দিতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। এমনকি প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত বৈঠকেও বঙ্গ বিজেপির স্থানীয় এবং আদি নেতাদের মতামতের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যদিও রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, দল একটি পরিবার। এখানে আদি এবং নব্য এভাবে বিভাজন করা হয় না। যাঁরা কাজ করতে পারবেন, যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এবং যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেককে নিয়েই আমরা নির্বাচনি লড়াইয়ে নামতে চাইছি।
মঙ্গলবার দোলযাত্রার দিনই বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহাকে। আজ, বৃহস্পতিবার তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন। বিহার থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে। তবে রাহুল সিনহাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বঙ্গ বিজেপি আদতে দলের আদিপন্থী নেতা, কর্মীদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ কমাতে সক্রিয় হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
রাজ্য বিজেপিতে আদি এবং নব্যপন্থী নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোনো নতুন বিষয় নয়। বিভিন্ন কারণে মান, অভিমানে দলের আদি নেতাদের একটি বড় অংশ যে গোঁসাঘরে খিল দিয়েছেন, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের মোটেও অজানা নয়। কিন্তু পুরনো নেতা, কর্মীদের ছাড়া যে দল এক পাও এগতে পারবে না, সেটিও বিলক্ষণ জানেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ভোটের আবহে তাই আদি নেতা, কর্মীদের সক্রিয় করতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি। সেইমতোই ভোট প্রস্তুতিতে এবং নির্বাচনি যুদ্ধে সরাসরি তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা আসন থেকে সর্বাধিক তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম দিল্লিতে পাঠনোর নির্দেশ দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এব্যাপারে সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনি পর্যবেক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূপেন্দ্র যাদব।