নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর ছারখার করে দিয়েছে পাকিস্তানকে। তারপর থেকে ভারতীয় সেনার বিজয়গাথা মুখে মুখে ফিরছে। সেই অপারেশনের অন্যতম মুখ কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘জঙ্গিদের বোন’ বলে বিতর্কে জড়ালেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয় শাহ। তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল ও কংগ্রেস।
সোমবার ইন্দোরের মউয়ে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেন মন্ত্রী। কংগ্রেস এসংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। তাতে বিজয় বলছেন, ‘সিঁদুর মুছে আমাদের বোন-মেয়েদের অসম্মান করেছে জঙ্গিরা। আমরা পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তাদের বোনকেই পাঠিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পহেলগাঁওতে জঙ্গিরা ধর্ম জানতে জামাকাপড় খুলিয়ে পরীক্ষা করেছে। তারপর গুলি করে মেরেছে। মোদিজিতে নিজে তো সেকাজ করতে পারবেন না। তাই জঙ্গিদের সম্প্রদায়েরই বোনকে পাঠিয়েছেন শাস্তি দেওয়ার জন্য।’
বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্যের সমালোচনা করে অবিলম্বে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে ছেঁটে ফেলার দাবি তুলেছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবির জানিয়েছে, এটাই বিজেপির আসল রূপ। ওরা বিদ্বেষে এতটাই মত্ত যে ভারতীয় সেনা আধিকারিককেও বিষাক্ত ধর্মান্ধতার শিকার হতে হচ্ছে। বিজেপির যদি এতটুকুও লজ্জা থাকে, তাহলে কর্নেল কুরেশি ও দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক।
একই সুরে হাত শিবিরের তোপ, ভারতের কন্যা কর্নেল কুরেশিকে নিয়ে গোটা দেশ গর্বিত। কিন্তু, বিজেপি নেতা তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত অসম্মানজনক মন্তব্য করেছে। এটা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অপমান। এরপরই বিজেপিকে নিশানা করে কংগ্রেসের কটাক্ষ, বিজয় শাহ নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ট বলে দাবি করেন। এখন বিজেপি কি তাঁর ইস্তফা চাইবে? এই ধরনের জঘন্য মানসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ বিজেপি নেতারা কি ক্ষমা চাইবেন? নাকি বিজয় শাহকে পুরষ্কৃত করা হবে? প্রসঙ্গত, ভিডিওতে কোথাও কুরেশির নাম করেননি মন্ত্রী। কিন্তু, তিনি যে বারবার কর্নেলকেই নিশানা করেছেন, সেব্যাপারে নিশ্চিত কংগ্রেস নেতৃত্ব।